কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। দিন গড়িয়ে রাতেও দেখা গেছে বিভিন্ন বাহিনীর টহল।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জেলা সদরসহ পাঁচটি উপজেলার কোথাও আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনও সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা প্রকাশ্য কর্মসূচি দেখা যায়নি। একইসঙ্গে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
তবে অজ্ঞাত দুই একটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও কেক কাটার ভিডিও সামাজিক গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ এলাকা, পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড, পাটগাতি বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ ও আশপাশের এলাকায় সাঁজোয়া যানসহ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জনমানবশূন্য ছিল এই সমাধিসৌধ। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা এবং জনসমাগমস্থলে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। বেশিরভাগ সড়ক ছিল ফাঁকা। জনসমাগমও ছিল কম।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে সোমবার রাত থেকেই মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। জেলার কোথাও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনও মিছিল বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি। জেলা শহরেও আওয়ামী লীগের কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল।
তবে বেলা ১১টার দিকে জেলা যুবদল শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
অপরদিকে, মিছিল-সমাবেশের আশঙ্কায় জেলার কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলা থেকে মোট ছয় জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি পুলিশ।
বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে
পুলিশ জানিয়েছে, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গোপালগঞ্জের মানুষ শান্তিপ্রিয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তারপরও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আছে।’