ধানের শীষে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রমাণ করেছেন তারা কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের দাসত্ব করেন না। তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেয়ার অধিকার রাখেন- এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ৬৫টি পূজামণ্ডপে প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রতীমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, একসময় অনেকে মনে করতেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ একটি রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের শক্তি। কিন্তু বিগত নির্বাচনে আমার নির্বাচনী এলাকার হিন্দু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিপুল ভোটে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারা প্রমাণ করেছেন, কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের দাসত্ব তারা করেন না।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশপ্রেমিক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি’ জাতীয়তাবাদের ধারার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টিও প্রমাণ করেছেন। তাদের নিজেদের আত্মীয় মনে করে দুর্গাপূজার আনন্দ-উৎসব আরও সুন্দর করতে নির্বাহী ক্ষমতাবলে ছুটি বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১১-দলীয় জোট নির্বাচনে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে একটি গোষ্ঠীর ভোট নিয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে বিরোধী দলকে অনুরোধ করব, আপনারা আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন, সংসদে গঠনমূলক আলোচনা করুন এবং সরকারকে সহযোগিতা করুন।
মীর শাহে আলম বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বিনা ভোটে বা রাতের ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে না। সরকার জনগণের ভোট নিয়ে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়। এ জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন, স্বাস্থ্যসেবা, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসব্যবস্থা, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি আনার কথা জানান তিনি। পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে আবার ভোট চাইবেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোট দিলে তারা সরকার গঠন করবেন আর ভোট না দিলে বিরোধী দলে চলে যাবেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন তৌফিক, সদস্যসচিব রোকন উদ্দিন, শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি রামনারায়ণ কানু এবং মোকামতলার নয়ন চন্দ্র।