পাবনায় এক দশকেরও বেশি সময় পর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) দেয়াল লিখন ও পোস্টার দেখা গেছে। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোজার ঈদের দিন রাতে আতাইকুলা থানা এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার সাঁটানো হয়। পোস্টারে সর্বহারার সমাজতন্ত্র কায়েমের পাশাপাশি স্থানীয় তাঁত শিল্প রক্ষার কথা বলা হয়েছে।
রোববার সকাল থেকে একদন্ত, লক্ষ্মীপুর, বৃহস্পতিপুর, ভুলবাড়িয়া, তেবাড়িয়া, শ্রীপুর, শিবপুর, শরৎগঞ্জ, ধানুয়াটা, বালুঘাটা, আয়েনগঞ্জ, হাদল, ধূলাউরীসহ বিভিন্ন বাজারে এই পোস্টার দেখতে পান স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, রাতের আঁধারে এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে। সকালে উঠে এগুলো দেখার পর থেকেই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুরনো রক্তক্ষয়ের দিনের কথা মনে করে তারা আতঙ্কিত।
একজন ব্যবসায়ী বলছিলেন, “আগে সকালে ঘুম থেকে উঠেই মার্ডারের খবর শুনতে হত। ওই দিন আর চাই না।”
সংগঠনটির এক কর্মী বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই তারা আবারও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিপুল সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করায় সংগঠনটি প্রায় নেতৃত্বশূন্য ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল।
দলের আত্মসমর্পণ করা এক কর্মী বলছিলেন, “আমরা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছি। স্বাভাবিক কাজকর্ম করে চলছি। আর ওই অন্ধকার জগতে ফিরতে চাই না। ওই সময়ে সরকারের দেওয়া আর্থিক সহায়তায় আমরা বর্তমানে ভালো আছি।”
এ বিষয়ে আতাইকুলা থানার ওসি জামিরুল ইসলাম বলেন, “পোস্টারিংয়ের খবর পাওয়ার পর আমি থানা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নমুনা সংগ্রহ করেছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
“সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মত কোনো অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না। কারা এই পোস্টারিংয়ের সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করছেন। তারা আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখতে চান না।”