Image description

ইরান যদি চুক্তি করতে রাজি না হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘বোমাবর্ষণ’ চালিয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা স্থগিতের পর ইরানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

 

সোমবার (২৩ মার্চ) মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া আলোচনার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, রোববার (২২ মার্চ) আলোচনা হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এই আলোচনা চলেছে।

 

ট্রাম্পের দাবি, ইরান চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রও চুক্তি করতে ইচ্ছুক।

 

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আজ সম্ভবত ফোনে আমাদের মধ্যে কথা হবে... তবে আমরা খুব শিগগির কোনো এক সময়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করব।

 

এরপর ট্রাম্প বলেন, আমরা পাঁচ দিনের একটি সময়সীমা দিচ্ছি। দেখা যাক কী হয়। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে আমরা এই সমস্যার সমাধান করে ফেলব। অন্যথায়, আমরা আমাদের মন যা চায় সে অনুযায়ী বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাব।

 

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়ে লিখেছেন, অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিরোধের বিষয়ে সম্পূর্ণ এবং সামগ্রিক সমাধানের বিষয়ে অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সব সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) নির্দেশ দিয়েছি। তবে এটি চলমান বৈঠক এবং আলোচনার সফলতার ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা বা সংলাপ চলছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্প মূলত জ্বালানির দাম কমাতে এই কৌশল নিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান।

 

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানো এবং তার সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ক্ষেপণের কৌশল।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে যোগ করেছে, উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে কিছু ‘উদ্যোগ’ নেওয়া হয়েছে। তবে দেশগুলোর উচিত নিজেদের উদ্বেগ নিয়ে সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলা। কারণ তারাই ‘এই যুদ্ধের সূচনাকারী’।