বগুড়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জেলার অর্ধেকের বেশি পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) দিনভর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে। কোথাও ‘জ্বালানি নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে, আবার কোথাও পাম্প ঢেকে রাখা হয়েছে কাপড় দিয়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় মোট ৭২টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। কয়েক দিন ধরেই জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি চলছিল। এর মধ্যে ঈদের আগের রাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে অল্প সময়েই অধিকাংশ পাম্পের মজুত শেষ হয়ে যায়। ঈদের দিন থেকেই এর প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করে। পরদিন রোববার কিছু পাম্প সীমিতভাবে তেল বিক্রি করলেও সোমবার সকালে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় একে একে পাম্পগুলো বন্ধ করে দেন মালিকেরা।
তেল নিতে এসে ফিরে যাওয়া মোটরসাইকেল চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এভাবে দেশ চলতে পারে না। আসলেই তেল নেই, নাকি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে—সরকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’ আরেক বাইকার হাসান মাহমুদ বলেন, ‘খোলা বাজারে গেলে ঠিকই তেল পাওয়া যায়, কিন্তু পাম্পে গেলে বলে তেল নেই। মনে হচ্ছে সিন্ডিকেটের খেলা।’
পাম্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গ্রাহক আসায় দ্রুত মজুত শেষ হয়ে গেছে। সোমবার সকাল থেকেই বহু মানুষ তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
বগুড়া ফিলিং স্টেশনের প্রতিনিধি হায়দার আলী বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। সকাল ১০টা পর্যন্ত বিক্রি করেছি, এরপর মজুত শেষ হয়ে গেলে বিক্রি বন্ধ করতে হয়েছে। তেল পেলেই আবার বিক্রি শুরু করব।’
এ বিষয়ে রাজশাহী পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান রতন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জেলায় ৭২টি পাম্পের মধ্যে ৪০টির বেশি বন্ধ রয়েছে। যে ৩০টির মতো খোলা আছে, সেগুলোতেও তীব্র সংকট চলছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।’