Image description

জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তার প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে মাঠ পর্যায়ে। জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল না থাকায় অনেককে বন্ধ পাম্প ও খুচরা দোকানের সামনে তেলের আশায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ মানুষকে।

 

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে শহরের একাধিক পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশ পাম্পেই তেল নেই। তবুও হঠাৎ সরবরাহ আসতে পারে এই আশায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করছেন।

 

অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের অভাব থাকলেও স্থানীয় হাটবাজারে প্রকাশ্যেই অতিরিক্ত দামে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন বাইকাররা। সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও খুচরা বাজারে তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তারা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকরা। জরুরি কাজ ফেলে অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন, তবুও তেল পাচ্ছেন না।

 

জুই এন্টারপ্রাইজের সামনে তেল নিতে আসা বটতলা এলাকার এক কলেজ শিক্ষক নরুল হুদা বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সে জন্য গাড়িতে তেল নিতে বের হয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও তেল না পেয়ে শেষে একটি বন্ধ দোকানের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করি।’ বন্ধ দোকানের সামনে কেন অপেক্ষা করছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সবাই অপেক্ষা করছিল, আমিও দাঁড়িয়ে ছিলাম। শেষে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি।’

 

 

আরেক ভুক্তভোগী রোমান বলেন, ‘এখন মনের মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই। ঈদ কেমনে করব, গাড়িতে তেল নেই। পাম্পে তেল আছে কারসাজি করে তেল দিতেছে না। তেল নেই পাম্পে একটা নোটিশও টাঙিয়ে দেয়নি। এদিকে দোকানে বন্ধ করে রাখছে, নোটিশ দিয়ে রাখলে আমরা বুঝতে পারতাম এখানে তেল পাব নাকি পাব না। এখন তেল ছাড়া কেমনেই চলব।’

 

রিয়াদ বলেন, ‘খুচরা দোকানে তেল এখন বিক্রি করছেন ৩০০ টাকার উপরে। পাম্পে তেল নেই। তাহলে তারা কোথা থেকে তেল পাই। আমরা যারা বাইকাররা রয়েছি এখন তারা কোথায় যাবো প্রশাসনের এগুলো দেখা উচিত।’

 

এ বিষয়ে জামালপুর শহরের খাজা পেট্রোলিয়ামের ম্যানেজার মো. শরীফ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ডিপো থেকে সরবরাহ না থাকায় পাম্প এ তেল দেওয়া বন্ধ রাখতে হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে আমাদের গাড়ি ডিপোতে যাবে। যদি তেল পাই, তাহলে পরশু থেকে সরবরাহ শুরু করতে পারব। তেল না পেলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখন তেল না থাকলেও গ্রাহকের চাপ কমছে না। অনেকেই এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। তাদের ফেরাতে খারাপ লাগছে, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই।’