Image description

‘কোনো ক্যারম, কোনো টিভি চলবে না, এককথায় শেষ, রমজান মাস’, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি বাজারে গিয়ে এক চা দোকানিকে এমন নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা।

 

ঘটনাটি গত শুক্রবারের (২০ ডিসেম্বর)। সেসময় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ছিলেন।

 

ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে সেদিন সন্ধ্যায় নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজার পরিদর্শন করতে দেখা যায় আমির হামজাকে। তার সঙ্গে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আওতাধীন পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম।

 

ভিডিওটিতে আরও দেখা যায়, হঠাৎ এক চা দোকানির দিকে আঙুল তুলে কড়া ভাষায় নির্দেশ দিতে শুরু করেন মসিউল। তিনি বলতে থাকেন, ওই যে ক্যারম খেলছে। আমি বন্ধ করে দিছি কি না? কেন চলল? দেব বসান? আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না, তারাবির এক মাস কোনো ক্যারম, কোনো টিভি চলবে না। কেন চলল? এই বলে ক্যারম বোর্ডের ঘরের দিকে তিনি এগিয়ে যান।

 

 

সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমির হামজা বলেন, রমজান মাস, ইবাদতের মাস। যাই করবেন, নামাজের সময় যেন এসব না করেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চা বিক্রেতা রমজান বলেন, আমার এখানে এই কয়ডা লোকই বসে। তারা একটু টিভি দেখেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা কামের মেম্বার বলেন, হঠাৎ এসব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না। তরুণদের বিনোদন-খেলাধুলার দরকার আছে। তবে টাকা দিয়ে ক্যারম খেলা ভালো না।

 

পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। আমি তো কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেইনি।

 

এ বিষয়ে ওপর মহলের নির্দেশ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, উপরের নির্দেশেই আমরা কথা বলি। নিজে থেকে কিছু বলি নাকি!

 

এদিকে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, অধস্তনদের প্রতি এ ধরনের কোনো নির্দেশনা নেই। ওই কর্মকর্তাকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

 

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন বলেছেন, এটা কোনো পুলিশি নির্দেশনা না।

 

রোজার দিনে চায়ের দোকান খোলা থাকবে কিনা, সেটা আইন-কানুনের বিষয় না। মানুষের অনুভূতির বিষয়, মানা না মানার বিষয়।