Image description
কলকাতার বুদ্ধিজীবী জহর সরকারের পরামর্শ

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী জহর সরকার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক মনে করেন, দিল্লির উচিত এখন ধৈর্য ধরে ঢাকার সঙ্গে পুরোনো বন্ধুত্ব নতুন করে ঝালাই করে নেওয়া। ভারতের উচিত হবে না বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খুব বেশি দৃশ্যমান হওয়া। বরং পর্দার আড়ালে থেকে সম্পর্ক মেরামতের কাজে মন দেওয়া প্রয়োজন। জহর সরকারের মতে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। হাসিনা যেন ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বাধা না হয়।

ভারতীয় এই কূটনীতিকের মতে, ভারতের নীতিতে এখন একটি বড় ধরনের বদল দেখা যাচ্ছে। দিল্লি এখন বুঝতে পারছে যে, শুধু একজনের ওপর নির্ভর করে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই দীর্ঘ এক বছর পর ভারত এখন বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে অনেক বেশি আগ্রহী।

জহর সরকার লক্ষ করেছেন যে, বিএনপি এখন অনেক বেশি মধ্যপন্থি অবস্থানে ফিরে এসেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও নিজেদের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছে। যদিও তারা নির্বাচনে খুব বেশি আসন পায়নি, তবে তাদের ভোট ব্যাংক যে বেড়েছেÑতা উপেক্ষা করা যায় না। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকাগুলোতে তাদের প্রভাব ভারতের জন্য একটি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে জহর সরকার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ড. ইউনূস বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। তার তৈরি করা ৮৪ দফার ‘জুলাই চার্টার’ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য ড. ইউনূস ধন্যবাদ পেতেই পারেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সামলাতে তিনি পুরোপুরি সফল হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভোটাররা জেন-জি নেতৃত্বকে বর্জন করে অভিজ্ঞ রাজনীতির ওপরই আস্থা রেখেছেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে এখন অনেক চ্যালেঞ্জ। জহর সরকার স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। ভারতের উচিত হবে অবিলম্বে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ব্যবস্থা সহজ করে দেওয়া। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য যারা ভারতে আসতে চান, তাদের পথ প্রশস্ত করতে হবে। রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা বন্ধু বলে কিছু নেই। তাই বাস্তবতার নিরিখে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন রূপ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।