Image description

জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ মির্জা একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে ১০০ নম্বর এবং ভর্তি পরীক্ষার এমসিকিউ থেকে ১০০ নম্বর মিলিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। 

এতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বেশি সুবিধা পায় এমন যুক্তি তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, “মাদ্রাসার ছাত্ররা আলিম, দাখিল পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি নম্বর পায়। স্কুল/কলেজ গুলোতে আর্টসের বিষয়ে নম্বর প্রাপ্তির হার তুলনামূলক কম। তাই এই জায়গাতে জেনারেল এডুকেশন হতে আসা ছাত্ররা পিছিয়ে যায়।”

বোর্ড পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে বা বাদ দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বাড়ালে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কমবে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, “নেক্সট ভার্সিটি এক্সামের ক্ষেত্রে এস এস সি+ এইচ এস সি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের হিসাব বাদ দিয়ে অথবা ২০ নম্বর সেখান থেকে এবং বাকি ১৮০ নম্বর ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর হতে হিসাব করে ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম করা হলে মাদ্রাসার ছাত্র ইনপুট কমে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।”

তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় বোর্ড পরীক্ষার নম্বর সরাসরি ১০০ হিসেবে যুক্ত হওয়ার দাবিটি সত্য নয়। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্ড পরীক্ষার নম্বর থেকে সর্বোচ্চ ২০ নম্বর যুক্ত করা হয়। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএসসি বা এইচএসসির ফলাফল থেকে কোনো নম্বর যুক্ত হয়না।

 

নীচে দেশের কয়েকটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের মানবণ্টন দেখানো হলো:

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২০২৫ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মোট মূল্যায়ন ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে করা হয়।  এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার নম্বর ১০০ এবং এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান ফলাফলের ভিত্তিতে যুক্ত হয় ২০ নম্বর।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের সদস্য কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মামুন-অর-রশীদ বলেন, অনেক আগে জিপিএ থেকে ১০০ নাম্বার যুক্ত করা হতো। যখন থেকে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে তখন থেকেই বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মাত্র ২০ নম্বর যুক্ত করা হয়।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে  মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে ১০০ নম্বর ভর্তি পরীক্ষা এবং ২০ নম্বর এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ থেকে যুক্ত হতো। তবে ২০২৫ সাল থেকে জিপিএ থেকে নম্বর যোগ করার পদ্ধতি বাদ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দীন খান বলেন, এ বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শুধুমাত্র ১০০ নম্বারে পরীক্ষা হয়েছে। আগেও কখনো জিপিএ থেকে ১০০ নম্বার যুক্ত করা হয়নি।

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত ৮০টি প্রশ্ন থাকে, প্রতিটি প্রশ্নের মান ১.২৫। এখানে এসএসসি বা এইচএসসির জিপিএর ভিত্তিতে আলাদা নম্বর যুক্ত করা হয় না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এসএসসি পরীক্ষার জিপিএ থেকে ৮ নম্বর ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএর ক্ষেত্রে ১২ নাম্বার যুক্ত করে সর্বমোট ১০০ নম্বর মূল্যয়ন করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট মূল্যায়ন ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে করা হয়। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার নম্বর ৭২ এবং এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান ফলাফলের ভিত্তিতে যুক্ত হয় ২৮ নম্বর।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয় ৮০ নম্বরে। এর বাইরে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ থেকে ২০ নম্বর যুক্ত করে সর্বমোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল দেওয়া হয়।

 

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর বাইরে বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো নম্বর যুক্ত করা হয়না।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির সচিব প্রফেসর মো. মনজুরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে ১০০ নম্বর যুক্ত হয় না। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে ২০ নম্বর যুক্ত করা হয়।

অর্থাৎ ভর্তি পরীক্ষায়  এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে ১০০ নম্বর যুক্ত হয় দাবিটি অসত্য।