Image description

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের কাঠামোগত দুর্বলতা ও তৃণমূলের স্থবিরতা নিয়ে কাজ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় কর্মদিবসেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সাবেক এই ফুটবল অধিনায়ক। বৈঠকে উঠে আসে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অকার্যকারিতা, অবকাঠামোর অব্যবহার, বাজেট সংকট এবং অলিম্পিকমুখী পরিকল্পনার অভাব। এসব আলোচনার মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন স্কুলপর্যায়ে পাঁচটি খেলাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিচ্ছে।

 

প্রতিমন্ত্রী বৈঠকের শুরুতে দেশের ক্রীড়াবিষয়ক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং জেলা পর্যায় থেকে খেলোয়াড় ও সংগঠক তৈরির প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তার ভাষায়, অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে মাঠভিত্তিক কার্যক্রম ও নিয়মিত প্রতিযোগিতা চালু করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

 

ফুটবল ও ক্রিকেটকে ভিত্তি ধরে আরও তিনটি খেলা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের মতামত চান তিনি। আলোচনায় কারাতে, দাবা, হ্যান্ডবল ও অ্যাথলেটিকসের নাম উঠে আসে। লক্ষ্য—শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই বহুমুখী ক্রীড়ায় সম্পৃক্ত করা।

 

বৈঠকে সাংবাদিকরা মতামত দেন, বর্তমান অনুদান দিয়ে জেলা পর্যায়ে সব খেলা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। অনেক স্টেডিয়াম থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র সংস্কার ও নিয়মিত নির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

 

মহিলা জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডহক কমিটিতে পরিচালিত হচ্ছে—এই সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরা হয়।

 

অলিম্পিকে পদক জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোন খেলায় বেশি বিনিয়োগ করা উচিত—এ প্রশ্নের উত্তরে সাংবাদিকরা শুটিং, আরচারি ও হকির নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত ৫২টি ফেডারেশনের কার্যকারিতা মূল্যায়নে একটি স্বতন্ত্র কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে প্রত্যাশিত মানের খেলোয়াড় না আসা, ব্যয়ের বিপরীতে জবাবদিহির অভাব এবং স্টেডিয়ামভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ক্রীড়া পরিষদের পরিচালনায় ক্রীড়াবিদদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

 

সব প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কেবল শুরু। আজকের আলোচনার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কমিশন বা বিশেষ কমিটি করে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

 

স্টেডিয়াম এলাকার নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হলে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন।

 

তৃণমূলের ফুটবলার থেকে ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারক—এই পথচলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমিনুল হক ক্রীড়াঙ্গনে কাঠামোগত পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা রূপ পায়।