Image description
 

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়ন এলাকায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের তরমুজ ক্ষেত লন্ডভন্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা তরমুজের চারা উপড়ে ফেলে ক্ষেত নষ্ট করে দেয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আমিন আলী দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি শ্যামনগর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য। সংসারের খরচ নির্বাহের জন্য তিনি দুই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। রবিবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার ক্ষেতে প্রবেশ করে সারিবদ্ধভাবে লাগানো চারাগাছ উপড়ে ফেলে জমির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়।

সোমবার সকালে ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, সব চারাগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। আশপাশের অন্যান্য জমিতে তরমুজের চারা অক্ষত থাকলেও কেবল মাওলানা আমিন আলীর ক্ষেতেই এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এতে এ ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাশকতার অভিযোগ ওঠে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মোমিন আলী বলেন, তার ভাই দিনমজুরি ও কৃষিকাজ করে সংসার চালান। তরমুজ চাষই ছিল চলতি মৌসুমে পরিবারের একমাত্র ভরসা। চারা নষ্ট হওয়ায় পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।

 

পরিবারের অভিযোগ, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম–এর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন মাওলানা আমিন আলী। নির্বাচনের পরপরই তার জমিতে এমন ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই এ নাশকতা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

ক্ষতিগ্রস্ত মাওলানা আমিন আলী বলেন, স্থানীয়ভাবে কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণেই তার ফসল নষ্ট করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এলাকাবাসীরা জানান, মাওলানা আমিন আলী স্থানীয় মক্তবে শিক্ষাদান করেন এবং মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। কৃষিকাজই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।