Image description
 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব সহজ কাজ নয়। সুগার ধরা পড়লেই বিধিনিষেধ চলে আসে খাওয়াদাওয়ায়। উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার একেবারে খাওয়া যাবে না। অথচ সময়মতো খাবার না খেলে আপনার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হতে পারে। আবার যদি ভুল করে কোনো মিল বাদ দিয়ে দেন, তখনো পস্তাতে হবে। তখন শরীরে কী ঘটে জানেন? মিল স্কিপ করলে কিংবা খাবার না খেলে ডায়াবেটিসের রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। এ অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়।

 

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কিছু করণীয়—

১. নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার খাওয়া দরকার

শুধু খাওয়াদাওয়া কিংবা শরীরচর্চার মাধ্যমে সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। সে জন্য দরকার পড়ে ওষুধেরও। সেই ওষুধগুলো যাতে আপনার শরীরে ঠিকমতো কাজ করতে পারে, সে জন্য সঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া করা দরকার। এ বিষয়ে  ডা. পাল বলেন, ডায়াবেটিসের ওষুধ সকালের দিকেই খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সময়মতো খাবার না খেলে ওষুধও ঠিকমতো কাজ করবে না। সে জন্য ক্যালোরি কম এমন খাবারই নির্দিষ্ট সময় অন্তর খেতে হবে।

২. একবেলা খাবার না খেলে কী করবেন

অনেক সময়ে ব্যস্ততার জন্য লাঞ্চ কিংবা ব্রেকফাস্ট স্কিপ করতে হয়। কিন্তু পেটভর্তি খাবার খাওয়া হয় না। এমন পরিস্থিতিতে পড়া প্রসঙ্গে ডা. পাল বলেন, যদি মনে হয় কাজের চাপে লাঞ্চ করতে পারবেন, তাহলে ওই সময়ে যে ওষুধটি খাওয়ার রয়েছে, সেটি খাবেন না। যখন খাবার খাবেন, তখন ওষুধটি খেয়ে নিন। তবে এ কাজ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই করতে হবে।

৩. দিনে কতক্ষণ অন্তর খাবার খাওয়া উচিত

ডায়াবেটিসের রোগীদের শুধু খাবার নিয়ে সচেতন হলে চলে না। সঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া করাও জরুরি। ডা. পাল বলেছেন, মেডিকেশনের ওপর নির্ভর করছে কতক্ষণ অন্তর আপনি খাবার খাবেন। সাধারণত দুটি মিলের মাঝে ৩-৪ ঘণ্টার ব্যবধান রাখা যথেষ্ট। অনেকে ২ ঘণ্টা অন্তরও খাবার খান। এতে বিপাকক্রিয়া সচল থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও স্বাভাবিক থাকে। 

৪. মিল স্কিপ করলে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে

টাইপ-১ ডায়াবেটিসে বেশিরভাগ সময়ই ইনসুলিন নিতে হয়। এ সময়ে যদি খাবার না খেয়ে থাকেন, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা একদম কমে যায়। কারণ ইনসুলিন কাজ করা থামিয়ে দেয়। আর টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগতে হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়ায়। এ বিষয়ে জেনারেল ফিজিশিয়ান রুদ্রজিৎ পাল বলেছেন, মিল স্কিপ করলে কিংবা খাবার না খেলে ডায়াবেটিসের রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। এ অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও অস্বাভাবিক ঘাম হওয়ার মতো লক্ষণগুলো দেখা দেয়। অনেক সময়ে রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়।

ডায়াবেটিসে মিল স্কিপ করা কি উচিত?  কখনোই না। ডায়াবেটিসে মিল স্কিপ করলে যে ক্ষতি হতে পারে।

রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবে। এতে আপনি হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় ভুগতে পারেন।

লাঞ্চ না করলে ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে? কারণ একে চিকিৎসকরা 'রিবাউন্ড হাইপারগ্লাইসেমিয়া' বলেন। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর যখন পরবর্তী বেলা অনেকটা বেশি খাবার খেয়ে ফেলা হয়, তখন সুগার লেভেল হঠাৎ অনেকটা বেড়ে যেতে পারে, যা আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

কাজের চাপে লাঞ্চ করতে দেরি হলে যা করবেন—

সঙ্গে সবসময়ে আমন্ড, আখরোটের মতো হালকা ও পুষ্টিকর স্ন্যাকস রাখুন। যখন ভারি খাবার খাওয়ার সময় পাবেন না, তখন এগুলো খেতে পারেন।

যে ধরনের খাবার ডায়াবেটিসে খাওয়া দরকার, তা হচ্ছে— প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার।

যেসব খাবার ডায়াবেটিসে এড়িয়ে চলবেন? তারমধ্যে হচ্ছে— উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার, স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।