Image description

ক্ষমতায় এলে কেরু অ্যান্ড কোং সুগার মিলসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া সব কল-কারখানা সচল করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এমন আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, কেরু কোম্পানির সুগার মিল একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ চিনি কল ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা অঙ্গীকার করছি— ইনশাআল্লাহ, সব বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল, ফ্যাক্টরি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার সচল করে তুলব।

তিনি বলেন, চুরি-দুর্নীতি ও লুটপাট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করার সুযোগ দেওয়া হবে না। যখন দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ হবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মিল ও শিল্পকারখানাগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিল্পকারখানা চালু হলে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। এর ধারাবাহিকতায় নতুন নতুন কারখানা গড়ে উঠবে, তৈরি হবে আরও কর্মসংস্থান। আমরা বেকারত্ব নয়, কর্মসংস্থান চাই। ইনশাআল্লাহ, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলে এই দেশকে একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘কেরু অ্যান্ড কোম্পানি’র সুগার মিলটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ চিনিকল হলেও বর্তমানে এটি কার্যত অচল প্রায়। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণার পর বর্তমানে এটি লোকসানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। 

কোম্পানিটির মূল পণ্য হচ্ছে আখ থেকে উৎপাদিত চিনি। তবে আখ থেকে চিনি বের করে নেওয়ার পর যে উপজাত-দ্রব্য চিটাগুড়, ব্যাগাস ও প্রেসমাড পাওয়া যায় তা থেকেও বিভিন্ন পণ্য উৎপাদিত হয়। উপজাত দ্রব্য হতে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে উলেখযোগ্য হচ্ছে দেশি মদ, বিদেশি মদ, ভিনেগার, স্পিরিট ও জৈব সার। এখান থেকে বছরে প্রায় ৩৯ লাখ ২০ হাজার বোতল ফরেন লিকার উৎপাদিত হয় এবং বাংলা মদের বার্ষিক উৎপাদন হয় প্রায় ২৬ লাখ লিটার, যা দেশের ১৩টি বিক্রয় কেন্দ্র হতে বাজারজাত করা হয়।

চিনিকল কার্যত অচল হলেও উপজাত মদের কারণে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে তেমন লোকসান গুনতে হয় না। গত বছরের এক হিসাবে জানা গেছে, টানা পাঁচ বছর ৬০ কোটি টাকা করে নিট লাভ করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। তবে চিনিকলে ব্যাপক লোকসান গুনতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। ২০২২-২৩ অর্থ-বছরে চিনি কারখানায় ৬৮ কোটি ১৬ লাখ লোকসান পুষিয়ে মিলটি নিট লাভ করেছে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিনিকলটি ঘুরে দাঁড়ালে অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি হতে পারে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।