Image description

‘আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীরা বেশি আপন’ হলো গ্রাম্য প্রবাদ। প্রতিবেশীরা সুখে-দুঃখে পাশে থাকে, আত্মীয়রা দূরে। এ বাস্তবতায় বলা হয় ‘আত্মীয় বদল করা যায় কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না’। প্রশ্ন হচ্ছে তথাকথিত বড় দেশ হিন্দুত্ববাদী ভারত কী ৫৫ বছরেও বাংলাদেশের বন্ধু হতে পেরেছে? ভারত এমন একটি দেশ যার সঙ্গে কোনো প্রতিবেশী দেশের সুসম্পর্ক নেই। লেন্দুপ দর্জির মতো ফ্যাসিস্ট হাসিনার মাধ্যমে সিকিমের মতো বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে ভারত কী শত্রু রাষ্ট্রের পথে হাঁটছে? ভারতের নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানাতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ করছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান মুসলমান ধর্মের হওয়ায় কট্টর হিন্দুত্ববাদী ভারতের সর্বশেষ শিকারে পরিণত হয়েছেন।

শুধু তাই নয়, যে হিন্দি সিনেমা ভারতের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে সেই সিনেমার নায়ক শাহরুখ খান মুসলমান হওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। বাংলাদেশও ‘যেমন কুকুর তেমন মুগুর’ প্রবাদের মতোই ভারতকে উচিত শিক্ষা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের ভেন্যুতে নিরাপত্তার শঙ্কায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মৃত্যুদ-ে দ-িত খুনি হাসিনাকে আশ্রয় দেয়া ভারত মুসলিম ক্রিকেটারদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশিদের ভারত গ্রহণ করছে না; বাংলাদেশ বছরের পর বছর ধরে যেসব ভারতীয় বৈধ-অবৈধভাবে চাকরি করে বিপুল অর্থ নিয়ে যাচ্ছে তাদের শনাক্ত করে বের করে দেয়ার দাবি উঠেছে। তাদের বক্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের শুধু ভারত-বিরোধিতা নয়, হিন্দুত্ববাদী দেশটির বিরুদ্ধে মালদ্বীপের মতো ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।

ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকের পর মার্কিনিদের আগ্রাসী নীতির এটা দ্বিতীয় ভয়ঙ্কর অপরাধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী ভূমিকার প্রতিবাদে গোটা বিশ্বে যখন তোলপাড়, তখন হিন্দুত্ববাদী ভারত ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিতর্কে মেতে উঠেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান মুসলমান ধর্মের হওয়ায় বিজিপির চাপে তাকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি কেকেআরের মালিক হিন্দি সিনেমার নায়ক শাহরুখ খান মুসলমান হওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও আরএসএসের ভাবশিষ্য নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র করতে মুসলিম খেদাও নির্বাচনী কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে ‘মুসলিম বিদ্বেষী কার্ড’ ব্যবহার করছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, এর আগে হিন্দুত্ববাদী ভারত অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে মন্দির নির্মাণ করেছে। উত্তরপ্রদেশের বানারসীর জ্ঞানপাপী মসজিদের ভেতরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজোর আয়োজন নির্দেশ দিয়েছে সে দেশের আদালত। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বিজেপি ও কট্টর হিন্দুদের দাবি সেখানে এক সময় মন্দির ছিল। মুঘল স¤্রাট আওরঙ্গজেব মন্দিরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করেছেন। শুধু তাই নয়, ওই মসজিদের জমিতে মন্দির ছিল সেটা প্রচার করে সাধারণ হিন্দুদের উস্কে দিতে মারাঠি ভাষায় ‘ছাভা’ (সিংহ শাবক) নামের সিনেমা নির্মাণ করা হয়। মুঘল সম্রাট আকবর নির্মিত তাজমহল হিন্দু মন্দিরের ওপর নির্মিত হয়েছে বিজেপি এমন তত্ত্ব হাজির করেছে। নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে মোদির পৃষ্ঠপোষকতায় ‘মুসলিম বিদ্বেষ কার্ড’ ব্যবহার করে হিন্দু মৌলবাদীরা এমন হিং¯্র পর্যায়ে গেছে যে, উত্তরপ্রদেশের দাপুটে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ভারতে কারো নাম আওরঙ্গজেব রাখা যাবে না। ভারতের মুসলিমরা যদি ‘সভ্যভব্য’ হন তাহলে তারা কখনওই সন্তানের নাম আওরঙ্গজেব রাখবেন না’। হিন্দুত্ববাদী কার্ড খেলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে কেন্দ্র থেকে শুরু করে রাজ্যগুলোর নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মিশনে নেমেছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। আর এটা করতে গিয়ে প্রতিবেশী প্রতিটি দেশের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে দেশটি।

কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বের ক্রিকেটাঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এমনকি ভারতেও এ নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে। বাংলাদেশি ক্রিটেকার মোস্তাফিজুর রহমান মুসলমান হওয়ায় তাকে বাদ দেয়া হয়েছে স্বীকার করে ভারতের কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর বলেছেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) নিন্দনীয়ভাবে মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি খেলোয়াড়টি যদি হিন্দু ধর্মাবলম্বী তথা লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতেন, তাহলে কী বাদ দেয়া হতো?’ ধর্মের কারণে মোস্তাফিজকে বাদ দেয়া বিজেপির রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে ভারতের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মদন লাল বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না কেন খেলাধুলার ভেতরে এত রাজনীতি ঢুকে পড়ছে। ক্রিকেট কোন দিকে যাচ্ছে, খেলাধুলাই বা কোন পথে তা নিয়ে আমি সত্যিই চিন্তিত। বাংলাদেশের খেলোয়াড় নিয়ে যা ঘটছে, তা খুবই দুঃখজনক’।

এদিকে সাধারণ মানুষের দাবির মুখে নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের জোরালো দাবি উঠেছে। তথ্য উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, আইপিএল খেলা টিভিতে সম্প্রচার বন্ধের আইনি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠানো সম্ভব নয় আইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। গতকাল রোববার আইসিসিকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় বিসিবি জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের ভেন্যুগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার শঙ্কা রয়েছে। সে কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ আগ্রহী থাকলেও খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিকল্প কোনো দেশে ম্যাচগুলো আয়োজনের সুযোগ থাকলে সে বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য আইসিসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড। আইসিসিকে পাঠানো এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্যত ভারতের ঔদ্ধত্যে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। ক্রিকেট অভিজ্ঞরা বলছেন, ভারত নিজেদের ক্রিকেট দুনিয়ার অধিপতি মনে করে। অতীতে দেশটি নিরাপত্তার অজুহাতে পাকিস্তানে খেলতে যায়নি। ভারত মনে করে তারা ক্রিকেটের সুপার পাওয়ার। কিন্তু হিন্দুত্ববাদী উগ্র বিজিপির শাহরুখ খানকে হত্যার হুমকি এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআরের খেলা থেকে বাদ দেয়া ইস্যুতে বাংলাদেশের ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভারতের জন্য চপেটাঘাত হয়েছে। এখন বাংলাদেশে যেসব ভারতীয় বৈধ-অবৈধভাবে কাজ করে কোটি কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে ভারতে ফেরত পাঠানোর কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভারত এমন একটা হিংসুটে দেশ যে দেশের সঙ্গে প্রতিবেশী কোনো দেশের সুসম্পর্ক নেই। চীন, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা এমনকি ভুটান কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব নেই। এমনকি মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার পর লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যাওয়া ভারত নাকে খত দিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক করার চেষ্টা করছে। সেখানেও পুরোপুরি সফল হতে পারেনি।

ভারত চানক্যনীতি গ্রহণ করে অর্ধশত বছর আগে লেন্দুপ দর্জির মাধ্যমে সিকিম দখল করে নিয়েছিল। বাংলাদেশেও দিল্লির চানক্যপুরি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দিল্লির কলোনিতে পরিণত করেছিল। দীর্ঘ ১৮ বছর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ ছিল কার্যত ভারতের হাতে। সে সময় হাসিনা বলেছিলেন, ‘ভারতকে যা দিয়েছি তারা চিরকাল আমাকে মনে রাখবে’। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আবদুল মোমেন বলেছিলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। সে জন্য শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারত সরকারকে সেটা করার অনুরোধ করেছি’। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে হাসিনা ও তার অলিগার্করা দিল্লির গোলামি করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা পালিয়ে দিল্লি যান। জাতিসংঘের ভাষায় ১৪শ’ লোকের হত্যাকারী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ভয়ঙ্কর অপরাধী শেখ হাসিনাকে প্রটেকশন দিচ্ছে ভারত। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের দেড় বছর নানাভাবে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করেছে ভারত এবং হুঙ্কার দিয়েছে খুনি হাসিনা। এত কিছুর পরও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিকভাবে মৃত্যু আওয়ামী লীগকে আগামী সংসদে পুনর্বাসনে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন দাবি আমদানি করা হয়। জামায়াতসহ বাংলাদেশের কিছু দলকে ম্যানেজ করে এ দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামায়। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রে সফল হতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে গেলেও উপদেষ্টা ও আমলাদের কেউ কেউ ভারতকে খুশি রাখার চেষ্টা করছে। সরকারের ভেতরে দিল্লির এজেন্ড সক্রিয় থাকায় হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে অসম এবং বিতর্কিত চুক্তিগুলো এখনো পর্যালোচনা এবং বাতিল করা হয়নি। তবে ২০২১ সালে মালদ্বীপে মোহাম্মদ মইজ্জু ক্ষমতায় আসার পর ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলন সফল হয়। হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে বাংলাদেশেও ইন্ডিয়া আউট (ভারত বর্জন) ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। আন্দোলনে সমর্থনকারী জনগণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা বয়কটের পক্ষে সমর্থন জানায়। এখনো ‘ইন্ডিয়া আউট’ এবং ‘বয়কট ইন্ডিয়ান প্রোডাক্টস’ ক্যাম্পেইন চলছে। অন্যদিকে এখনো কয়েক লাখ ভারতীয় নাগরিক বৈধ ও অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাজ করে বিপুল অর্থ নিয়ে যাচ্ছে সে ব্যাপারে চলছে নীরবতা।

বাংলাদেশের মুসলমান ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে নিলামে নিয়েছিল। ভারতের রুপি বাংলাদেশি মুসলমান খেলোয়াড় নিয়ে যাবে এটা বিজেপি মেনে নিতে পারেনি। তাই মোস্তাফিজকে বাদ এবং কেকেআরের মালিক সিনেমার নায়ক শাহরুখ খানকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। অথচ কয়েক লাখ ভারতীয় নাগরিক বৈধ ও অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে ভারতে পাঠাচ্ছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে স্কিল ম্যানপাওয়ারের নামে ভারতীয়দের চাকরি দেয়া হয়। এদের মধ্যে কিছু শ্রমিকের কাজ করার অনুমতি থাকলেও বেশির ভাগের কাজের অনুমতি নেই এবং তারা অবৈধভাবে বসবাস করছে। বছর তিনেক আগে এক গোপন তথ্যের ভিক্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ‘২৬ লাখ অবৈধ ভারতীয় বাংলাদেশে চাকরি করছেন’। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক উঠেছিল। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে দক্ষ ব্যবস্থাপকের অভাব ও শিল্প খাতে অভিজ্ঞ জনশক্তি নেই অজুহাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১০১টি দেশের নাগরিকদের কাজের ১৬ হাজার ৩০৩টি আবেদন অনুমোদন করে। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বৈধভাবে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ৫৪৭ জন। তাদের মধ্যে ভারতীয় ৩৫ হাজার ৩২৭ জন, চীনের ১৩ হাজার ৪০৪, দক্ষিণ কোরিয়ার ৫ হাজার ৫৫, শ্রীলঙ্কার ৩ হাজার ৭৮৫ জন নাগরিক রয়েছেন। গত বছরের জুন পর্যন্ত ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৯৭টি দেশের ১৩ হাজার ৫৭১ জন নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাঁদের পাসপোর্ট বা ভিসার মেয়াদ অনেক আগে ফুরিয়ে গেছে। আত্মগোপনে থেকে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে কাজ কাজ করছেন। কাগজে-কলমে তাদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৭২ জন। তবে কাগজপত্রের বাইরে অবৈধভাবে কয়েক লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করছে এমন তথ্য রয়েছে। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশে কোনো অবৈধ বিদেশি নাগরিককে থাকতে দেওয়া হবে না’। সাধারণ মানুষের দাবি ভারত একজন মুসলমান বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে কলকাতার কেকেআরে খেলে রুপি দেয়ায় শাহরুখ খানকে হত্যার হুমকি দিয়েছে; অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত বাংলাদেশের গার্মেন্টসহ বিভিন্ন শিল্প খাতে যেসব ভারতীয় বৈধ ও অবৈধভাবে কাজ করছে তাদের শনাক্ত করে সে দেশে ফেরত পাঠানো। ভারতীয়দের শনাক্তে কঠোর হতে হবে সরকারকে। অপ্রিয় হলেও হিন্দুত্ববাদী ভারতের বিজেপির নীতি সম্পর্কে যুৎসই উদাহরণ হচ্ছে ‘কুকুরের লেজ যেমন কখনো সোজা হয় না’ তেমনি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতকে যতই বন্ধু হিসেবে দেখা হতো দেশটির চরিত্র কখনো ঠিক হয় না’।