আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার পর্ব শুরুর বাকি আর মাত্র তেরো দিন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ভোটের অঙ্কে নেই কোনো বড় দল। এদিকে এই দুটি দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা না হলেও সমঝোতায় পৌঁছানোর ‘স্বপ্নে’ বিভোর জাতীয় পার্টি। সমঝোতা হলে কত আসন পেতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত না হলেও ৭০ আসনে প্রাপ্তির প্রত্যাশা দলটির।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর থেকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ তকমায় বেকায়দায় থাকা দলটি শেষমেশ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাপা। সারা বছর জাপাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন দল ও মহলের অপতৎপরতা থাকলেও দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়াও হয়েছে। নিরাপত্তার শঙ্কা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না মনে করলে শেষ পর্যন্ত দলটি নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারে বলে দলটির নীতিনির্ধারকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী কালবেলাকে বলেন, এখনো কোনো দল বা জোটের সঙ্গে আলোচনার সূত্রপাত হয়নি, তবে সে সম্ভাবনা বাতিলও করে দেওয়া যায় না। পারস্পরিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতা হতেও পারে। আর তা বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৭০ আসন চাইব। জাপার এক শীর্ষ নেতা দাবি করেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
জাতীয় পার্টিকে অব্যাহত হুমকি, নিরাপত্তার শঙ্কা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতেও হতে পারে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেও কোণঠাসা দশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। এমনকি নির্বাচনে প্রার্থীর সংকটে পড়ে দলটি। ফলে পাঁচ দিন মনোনয়নপত্র বিক্রির কথা থাকলেও মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র বিক্রি করে দলটি। সারা দেশে ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনীত করার ঘোষণা দিলেও মেলেনি আশানুরূপ সাড়া। মনোনয়নপত্র বিক্রি হয় মাত্র তিন শতাধিক। তার মধ্যে ২২৪ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করতে পেরেছে তারা। অথচ গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জাপা দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছিল ১ হাজার ৭৩৭টি। নির্বাচন কমিশনের বাছাইয়ে ২৩ মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা রয়েছে ২০১ আসনে। নির্বাচন কমিশনের আপিল শেষে আরও কয়েকজন বাড়তে পারে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ২১ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ শেষে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। যদি কোনো দল বা জোটের সঙ্গে আসন নিয়ে আলোচনা বা সমঝোতা হয় তবে তা এই সময়ের মধ্যেই হতে হবে।
এদিকে দলটির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য আসন সমঝোতার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে বলেন, জাপার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কিছু আসে যায় না। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনকে বহির্বিশ্বে অংশগ্রহণমূলক দেখাতে জাপাকে প্রয়োজন। তবে সেই প্রয়োজনের জন্য আসন সমঝোতার মতো বিষয়ে বিএনপি আগ্রহী নাও হতে পারে। আর জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে দল কোনো ফল পাবে না।