চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন।
আজ শুক্রবার সকালে সিন্ডিকেট সদস্যদের নিজের মুঠোফোন থেকে খুদে বার্তা (এসএমএস) এবং মেইলের মাধ্যমে সভার বিষয়টি অবহিত করেন। এ বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
উপাচার্য শরীফুল আলম বর্তমানে সার্কিট হাউজে অবস্থান করছেন। চুয়েটের ভিসি কার্যালয়ে ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তিনি মুক্ত হন। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে তিনি পুনরায় সার্কিট হাউজে গিয়ে ওঠেন। সেখানে বসেই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন।
আগামীর সময় থেকে সাত সিন্ডিকেট সদস্যকে ফোন দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মাত্র দুজন ফোন রিসিভ করেন। এর মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশলের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন জানান, ‘তিনি এসএমএস এর মাধ্যমে সিন্ডিকেট সভার আহ্বান করেছেন। এভাবে সিন্ডিকেট সভার আহ্বান করা যায় কি না—তা জানি না। সাধারণত রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সভার চিঠি আসে।’
তবে তিনি সভায় যোগদানের বিষয়ে নিশ্চিত নয় বলে আগামীর সময়কে জানান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চুয়েট সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. জাহিদুর রহমান আগামীর সময়কে বললেন, ‘খুদেবার্তায় আমন্ত্রণ পেয়েছি। এখনও বলতে পারছি না অনলাইনে সিন্ডিকেট মিটিংয়ে যুক্ত হব কিনা। তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের। বর্তমান পরিস্থিতে আমরা তেমন ভূমিকা রাখতে পারব বলে মনে হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষকদের নিয়েই সমাধানের পথ খুজতে হবে।’
জরুরি এই সিন্ডিকেট সভার বিষয়ে জানতে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে তালা লাগিয়ে দেন তারা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।