সাময়িক বন্ধের পর পর্যটকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই রাঙামাটির বাঘাইছড়ি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে প্রবেশ করেছেন প্রায় ৭০০ পর্যটক। তাদের আগমনে পর্যটনকেন্দ্রটিতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। স্বস্তি ফিরছে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও রিসোর্ট-কটেজ মালিকদের মধ্যেও।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাঘাইহাট থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট সেনা জোনের বিশেষ নিরাপত্তা স্কর্টের মাধ্যমে পর্যটকেরা সাজেকে পৌঁছান। কয়েক দিন পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েন রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। পর্যটকদের আগমন অব্যাহত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে আবারও গতি ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।
সাজেকের পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মেঘের রাজ্য, সবুজ পাহাড় ও মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন পর্যটনকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এতে আগাম রিসোর্ট-কটেজ বুকিং দেওয়া পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরাও অনিশ্চয়তায় পড়েন।
এ বিষয়ে কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় আমরা স্বস্তি বোধ করছি। পর্যটকদের বরণ করে নিতে সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজগুলো প্রস্তুত রয়েছে। আমরা আশা করছি,
পর্যটকদের আগমনে আবারও সাজেকের পর্যটন খাতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।’
এর আগে, গত ১১ অক্টোবর নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। একই সময়ে সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচির কারণে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হয়। পরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারী অ্যাসোসিয়েশন ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
এরপর ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর প্রথম দিনেই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনে স্থানীয় পর্যটন খাতে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। পর্যটকদের উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে এবং পর্যটননির্ভর মানুষের আয়-রোজগার বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।