বাংলাদেশের আদালত ও আইনি বিচারপ্রক্রিয়া শেখ হাসিনা একেবারে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
তিনি বলেন, “এখন আমাদের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। আইনজীবীদের এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আদালত যেন আর কখনো হাসিনার আদালতে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবনির্বাচিত সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার আমাদের সমাজ এবং কৃষ্টি-কালচারের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবেই রয়েছে, আমাদের মধ্যে ‘আইডিয়া অব জাস্টিস’ আছে। এই জাস্টিসের ধারণার কারণেই আমরা নীতি ও ন্যায্যতা শব্দগুলো পেয়েছি। এটা এক দিনে তৈরি হয়নি; দেড় হাজার, দুই হাজার বছর আগেই এই শব্দগুলো আমরা পেয়েছি। আমাদের বাংলাদেশি সমাজ তথা টোটাল বাঙালি সমাজে এই নীতি ও ন্যায্যতা অনেক পুরোনো। এটা ব্রিটিশরা আমাদের শিখিয়েছে তা নয়; এই জাস্টিসের ধারণা, ন্যায়বোধের ধারণা, ন্যায়বিচারের ধারণা বহু প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সমাজে, ইতিহাসে ও ঐতিহ্যে রয়েছে। সেই ন্যায়বিচারকে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর প্রধান দায়িত্ব বিশেষ করে তরুণ আইনজীবীদের।”
তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি যে, শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আদালতের রায় আসত, অ্যাটর্নি জেনারেলের কলম থেকে জজ সাহেবদের রায় আসত। সেই পরিস্থিতি এখন আর অব্যাহত রাখা যাবে না, সেই কলঙ্কজনক ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি হবে না। যেকোনো মূল্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটি কাজের মধ্যে আমি আইনের শাসনের বহিঃপ্রকাশ দেখছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বহর নিয়ে যাচ্ছেন, অথচ ট্রাফিক সিগন্যালে তিনি গোটা বহর নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন—এটা তো সুশাসনের একটি বড় ইঙ্গিত। এর পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে। সমাজের মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আইনজীবীদের।”
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবু জাফর খান।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি জাহারিয়া হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম।