মিয়ানমারের নৌবাহিনীর কাছে আটক ২৭ বাংলাদেশি জেলেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার (২১ জুন) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘স্বপ্ন নিয়ে ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আয়োজনে মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মানবিক বিবেচনায় জেলেদের মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ২৫ মার্চ বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আকস্মিক ঝড়ের কবলে নাহিদ কোম্পনির ১১ জন ও মিজান কোস্পানির ১৬ জন জেলে দিকভ্রান্ত হয়ে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়েন। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের নৌবাহিনী তাদের আটক করে রাখাইন রাজ্যের আকিয়াব (সিত্তে) অঞ্চলে নিয়ে যায়। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আটককৃতরা হলেন মো. রফিকি, মো. আ. রহিম, নরুল আবছার, মো. অনোয়ার হোসেন,জোবায়েরে আহমেদ, মুজিবুর রহমান ,ইয়াকুব, মো. লোকমান, মো. ওমর ফারুক, মো. ফয়সাল ইসলাম রাব্বি, মো. সোহাগ হোসেন, মো. জুয়েল, মো. শাহজাহান, মো. আঝি উল্ল্যাহ, মো. নীরব, মো. রাকিব হোসেন, মো. মেজবাহ উদ্দিন, মো. কামাল হোসেন ,তারকে রহমান, সাদ্দাম হোসনে, মো. সাইমুন, মো. লিটন,জাবেরে হোসেন, ফারহাদ হোসেন, মো. তাহমীদ, মো. তামজীদ ও মো. সোহাগ।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি ,গত কয়েক মাসে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তারা মানববন্ধনের মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। তাদের মাঝে অনেক অভিযোগ করেন ,যে কোম্পানি ট্রলারে করে তারা গিয়েছিল তাদের মালিক পক্ষেরে দ্বারাও তারা নানা ভাবে হয়রানি শিকার হয়েছেন ।
মো. সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী বিবি হালিমা বলেন, ২৫ মার্চ সকালে একটি বিদেশি নাম্বার কল থেকে আমার স্বামী কল দিয়ে জানান তিনি মায়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন জানিয়ে বলেন ,আমরা ভুলে সীমানা পার করার পর আামদের আটক করেছে।
পরে আমরা মীজান কোম্পানিতে যোগাযোগ করলে তারা বলেন ,আমাদের কোনো বোট ধরা খায় নাই। আপনারা নাটক করছেন। পরে তারা আমাদের থেকে ভোটার কার্ড নিয়ে বলে ছিলো যে চেষ্টা করবে কিন্তু পরে অনকে দিন পর হলো ও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এরপর আমার ভাই যোগাযোগ করলে তাকে বলেন বোটসহ আনতে পারলেই আমি আনবো সুধু মানুষের জন্য চেষ্টা করব না। পরে আমদের নিয়ে ঢাকা মানবন্ধনে এলোও তারা তেমন কোনো সহায়তা করেনি। অন্যদিকে আমার স্বামীকে মিয়ানমারে মরিচ গুড়া দিয়ে ভাত দিচ্ছে লবণ দিচ্ছে না এগুলো শুনে তার কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না।
জেলেদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের স্বজনরা কারাগারে থাকায় পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবারই একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে। পাশাপাশি আটক জেলেদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমাদের স্বজনরা কোনো অপরাধী নয়। জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কারণে তারা সীমান্ত অতিক্রম করেছেন।আমরা তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্বপ্ন নিয়ে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও মানববন্ধনের সমন্বয়ক আশরাফুল আলম হান্নান জানান, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি অসহায় জেলে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের কার্যকর উদ্যোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আটক জেলেরা দ্রুত নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারবেন। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে মিয়ানমারে আটক সব বাংলাদেশি জেলেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।