লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের দেওয়া অদ্ভুত ও বিতর্কিত সালিশি রায় ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জুয়া খেলার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের দিয়ে ‘শপথ’ করিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জুয়া খেললে স্ত্রী ‘মা’ এবং বাবা ‘ভাই’ হয়ে যাবেন।
অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। গত শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে এই সালিশ বসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আটক এক জুয়াড়িকে তার স্ত্রীর কাছে সোপর্দ করার সময় জসিম উদ্দিন চাপ প্রয়োগ করে তাকে বলতে বাধ্য করেন—আবার জুয়া খেললে স্ত্রী তার ‘মা’ হয়ে যাবেন। একইভাবে আরেকজন যুবককে তার বাবার সামনে দাঁড় করিয়ে বলা হয়—ভবিষ্যতে জুয়া খেললে বাবা ‘ভাই’ হয়ে যাবেন। উপস্থিত লোকজনের চাপের মুখে ওই যুবকও এমন শর্ত মেনে নেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অদ্ভুত শপথের আড়ালে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে। আটকদের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার হলেও পুলিশে না দিয়ে উল্টো তাদের কাছ থেকে ‘জরিমানা’ আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জুয়াড়িদের ধরার পারিশ্রমিক হিসেবে ৪০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খরচ বাবদ আরও ১০ হাজার টাকা নিয়ে মোট ৫০ হাজার টাকা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, আইনি ঝামেলার আশঙ্কায় তারা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবক জুয়াড়িদের আটক করে তাকে খবর দিলে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করেন। তবে অদ্ভুত শপথের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আটকদের কাছ থেকে হারানো মোবাইলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি থানাকে জানানো হয়েছে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, কোনো জনপ্রতিনিধির জুয়াড়িদের আটক করে বিচার বা জরিমানা করার আইনি এখতিয়ার নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শীর্ষনিউজ