সকাল থেকে রাজধানীতে ছিল তীব্র রোদ। বিকেলের দিকে হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরিবর্তন। আকাশে জমতে শুরু করে মেঘ। শুরু হয় মেঘের গর্জন। এরপর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে নামে ঝুমবৃষ্টি। প্রায় দুই ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় গ্রুপ ‘ট্রাফিক অ্যালার্ট-এ নগরবাসী জলাবদ্ধতা ও ভোগান্তির নানা চিত্র তুলে ধরেন।
গ্রুপে প্রকাশিত ছবি ও পোস্টে দেখা যায়, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, মিরপুর, গুলিস্তানসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে গেছে। এতে যানবাহনের গতি কমে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন কর্মস্থলফেরত মানুষ।
বৃষ্টির মধ্যে অনেককে ভিজেই গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিবেশ আন্দোলন কর্মী রাশেদ জিয়া রানা তার ফেসবুকের টাইমলাইনে ভোগান্তির কয়েকটি ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লেখেন, মিরপুর-১০ গোলচত্বর মাত্র কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে যায়। হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে মানুষকে। এমনকি একটি পথকুকুরও সংগ্রাম করছে রাস্তা পার হতে। মেট্রোরেল আর ফ্লাইওভারের শহরেও জলাবদ্ধতা আজ নিত্যসঙ্গী। প্রশ্ন একটাই সমস্যা কি শুধু বৃষ্টির, নাকি অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ, হারিয়ে যাওয়া জলাধার ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ।

জলমগ্ন ঢাবির টিএসসি এলাকা
মিরপুরের আরেক বাসিন্দা খান আসাদুজ্জামান মাসুম ফেসবুকে লিখেছেন, একটু বৃষ্টি হলেই আমরা মিরপুরবাসী বানভাসি হয়ে যাই। এমনকি মেট্রো স্টেশনের লিফটও ডুবে যায়। এই জলাবদ্ধতা থেকে কবে মুক্তি পাবে মিরপুরবাসী?
ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার পরিস্থিতিও ছিল একই রকম। তন্ময় নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে লেখেন, দেড় ঘণ্টা ধরে ধানমন্ডিতে আটকে আছি। হাঁটুসমান পানি। পরিস্থিতি এমন যে রিকশায়ও যাওয়ার উপায় নেই।
নগরবাসীর অভিযোগ, রাজধানীতে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যায়। প্রতি বর্ষায় একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর এবং স্থায়ী সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, আজ ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৫৮ মিলিমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আগামীর সময়কে বলছিলেন, এক ঘণ্টা বা দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে যে পরিমাণ পানি হয়েছে, এর কারণ বর্ষাকালীন বৃষ্টির ধরণ এখনো পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। বর্তমানে এই বৃষ্টির ধারা বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি আরও পশ্চিম দিকে বিস্তার লাভ করলে কমে আসবে বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা।
তিনি মন্তব্য করেন, বর্ষাকালে স্বল্প সময়ে বেশি বৃষ্টির জন্য সাধারণত লঘুচাপ বা নিম্নচাপের প্রয়োজন হয়। লঘুচাপ বা নিম্নচাপ ছাড়া অল্প সময়ে এমন বৃষ্টি তুলনামূলক কম হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বৃষ্টির প্রবণতা। কোথাও কোথাও হতে পারে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয়। এর প্রভাবে বৃষ্টি হতে পারে বিভিন্ন এলাকায়।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্ভাবনা রয়েছে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের।
পরবর্তী সময়ে কয়েক দিনেও দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২২ জুন রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে।
২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত থাকতে পারে বৃষ্টি। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায়ও রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে দেশের তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে আগামী পাঁচ দিনে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।