Image description

বয়স মাত্র ৯ বছর। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার কথা। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার কথা। এই বয়সে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরেছে শিশু হযরত আলী। পরিবারে খরচ ও অসুস্থ বাবার ওষুধের টাকা জোগাড় করতে তার এই সংগ্রাম। তার সংগ্রামী জীবনের কথা জানতে পারেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ।

 

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে হযরত আলীকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ নজরে আসে রেজওয়ানা নাহিদের। তিনি ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) হযরত আলীর বাড়িতে যান এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন।

 

ঈদ উপলক্ষে হযরত আলীর হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন ইউএনও। তার শয্যাশায়ী বাবার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করেন। পরিবারটিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা এবং হযরত আলীর লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

 

কালীগঞ্জ উপজেলার কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী। তার বাবা ইসরাইল হোসেন একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। ইসরাইল হোসেনের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা বন্ধ থাকলেও নিয়মিত ওষুধ না খেলে তীব্র যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারেন না তিনি।

 

পরিবারের সদস্য বলতে বৃদ্ধা অসুস্থ মা, স্ত্রী ও ছোট ছেলে হযরত আলী। অন্য দুই সন্তান আলাদা সংসার নিয়ে বাইরে থাকেন। দেড় শতক জমির ওপর টিনের বেড়ার একটি জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।

 

সংসারের হাল ধরতে হযরতের মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। কিন্তু সেই আয়েও সংসার চলে না। বাধ্য হয়ে ছোট ছেলে হযরত আলীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের হ্যান্ডেল। প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করে হযরত আলী। সেই টাকাতেই চলে বাবার ওষুধের খরচ।

 

 

ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, একটি শিশুর হাতে বই থাকার কথা, কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরতে বাধ্য করেছে। সমাজের সামর্থ্যবান সবাই এগিয়ে এলে হয়তো হযরত আলীর মতো শিশুদের সুন্দর জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।