ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ পাটুরিয়া ঘাটে জনস্রোত বেড়েছে। এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। ছদ্মবেশে পরিচালিত এক অভিযানে হাতেনাতে এ অনিয়ম ধরা পড়ে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবকে সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী নিজেও পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
নজরদারিতে দেখা যায়, নির্ধারিত ৪০ টাকার টিকিট যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ঈদের অতিরিক্ত ভিড়কে সুযোগ হিসেবে নিয়ে টিকিট বিক্রিতে নিয়োজিতরা প্রকাশ্যেই জনপ্রতি ১০ টাকা করে বেশি আদায় করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক যাত্রী প্রতিবাদ করলেও জোরপূর্বক বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ঘাট কর্তৃপক্ষ টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মারুফ বিল্ডার্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
ঘাটে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি চলছে। আজকের গোপন অভিযানে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে জড়িতদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী পাটুরিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট পরিদর্শন করেন। তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ভোগান্তির বিষয়গুলো শোনেন এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে নেওয়া প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন।
ঈদযাত্রার চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাটুরিয়া ঘাটে টিকিট কালোবাজারি, দালালচক্রের তৎপরতা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার ছদ্মবেশে সরাসরি অভিযান চালিয়ে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ঘাট এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।