হামের টিকার বিষয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের চরম গাফিলতি ছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বলেছেন, তাদের এ বিষয়ে সাতবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা প্রাইভেটলি টাকা খাওয়ার উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে অবহেলা করেছিল। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে হাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন দাবি করেন।
হাম সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে স্বাধীন তদন্ত চাওয়া হয়েছে কিনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যদি ১০ জনকে ফাঁসি দিয়েও হাম সংক্রমণে মায়ের বুক খালি হওয়া থামাতে না পারি, তাহলে কি আমি রক্ষা পাব? আসলে শুধু শাস্তি দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না।
টিকা দেওয়ার পরিসংখ্যানের ত্রুটি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই দেশের পরিসংখ্যান ও পৃথিবীর সবদেশের পরিসংখ্যান ভুল আছে। আমরা তাই পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর না করে যারা টিকা পায়নি, তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।
দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও স্বাস্থ্য বিভাগ বসে নেই এবং দেশের প্রতিটি মেডিকেল সেন্টারকে ডেকে ডেকে টিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাট খেত যখন পরিচর্যা শুরু করেন, কামলা নেন, শুরু করেই কি খেতের শেষ মাথায় যাইতে পারে? আস্তে আস্তে যেতে হবে। আমরা কাজ শুরু করেছি। সারাদেশব্যাপী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে, তবে তিন মাসে তো সব করতে পারব না। দোয়া করেন, আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।
হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী বিভিন্ন সংকট, সমস্যা ও রোগীদের অভিযোগ শোনেন এবং খাবারের মান যাচাই করেন। চিকিৎসকদের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা আগের থেকেও এখন বেশি উপস্থিত থাকছেন, আগে তো আসতেন না। আজকে এখানে সবার উপস্থিতি দেখলাম।
তিনি জানান, প্রথম ধাপে ১৮টি উপজেলায় টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার পর সেখানে সংক্রমণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং বর্তমানে টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ১২২ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশের ১০টি জেলায় পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর সেবা, অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সাপ্লাই করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেখানে শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি জেলায় এই সুবিধা দেওয়া হবে এবং উপজেলা পর্যায়ে বেড সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে।
মন্ত্রী পরিদর্শনের সময় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রেজা হাসান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ, ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ভারপ্রাপ্ত) পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।