মহানবী (সা.) ও সাহাবিরা নিজ হাতে কোরবানি করতেন। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তার কোরবানির পশুর ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে নিজ হাতে কোরবানি করতে দেখেছি।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১৫৫)
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির আগে ছুরি ধারালো করতে এবং তা পশুর দৃষ্টির অগোচরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তোমাদের কেউ জবেহ করার সময় যেন তা দ্রুত সম্পন্ন করে যাতে পশু অধিক পরিমাণে কষ্ট না পায়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১৭২)
রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণে মুসলিমরা সাধারণত নিজ হাতে বা অভিজ্ঞ কোনো আলেম বা দ্বীনদার ব্যক্তির মাধ্যমে পশু কোরবানি করেন। তবে বর্তমান প্রযুক্তির সময়ে কোরবানির পশু জবাই ও গোশত প্রক্রিয়াজাত করার কাজে অনেকে আধুনিক যন্ত্রের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অটোমেটিক স্লটার হাউস বা যান্ত্রিক ব্যবস্থায় পশু জবাইয়ের প্রচলন বাড়ছে।
এই পদ্ধতিতে পশু কোরবানি জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে। এসব শর্তের কোনোটি লঙ্ঘিত হলে সেই জবাই সহিহ হবে না এবং ওই পশুর গোশত খাওয়াও জায়েজ হবে না।
মেশিনে জবাই করা পশু হালাল হওয়ার তিনটি শর্ত
জবাইকারী মুসলিম হতে হবে
জবাই প্রক্রিয়া চালু করার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মুসলমান অথবা আহলে কিতাবভুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি মেশিনের সুইচ বা বাটন চাপ দিয়ে জবাই শুরু করবেন, তিনি যদি অমুসলিম বা নাস্তিক হন, তাহলে সেই জবাই শরিয়তসম্মত হবে না।
‘বিসমিল্লাহ’ বলতে হবে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো আল্লাহর নাম নেওয়া। যিনি মেশিনের সুইচে চাপ দেবেন, তাকে চাপ দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে।
মেশিন চালুর সঙ্গে সঙ্গে পশুর নির্ধারিত জবাইয়ের স্থান—অর্থাৎ গলা বা কণ্ঠনালি কাটা পড়তে হবে। যদি মেশিনের আঘাতে আগে অন্য কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেই কারণে পশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে ওই পশু হালাল হবে না।