ইরানকে কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখা ও তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করার শর্ত দিয়েছিল ওয়াশিংটন। সময় নিয়ে পর্যালোচনা শেষে এবার ওই শর্তের জবাব দিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এবারও শর্তের তালিকা দীর্ঘই রেখেছে তেহরান। অর্থাৎ ১৪ দফাই রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সংবাদ সম্মেলনে করে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে দীর্ঘ তালিকার শর্তগুলো কী কী তা স্পষ্ট করে জানাননি তিনি। ইরানের নীরবতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো তেহরানের সংশোধিত প্রস্তাব ফাঁস হয়েছে বলে দাবি করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া।
সোমবার (১৮ মে) তারা কয়েকটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো প্রকাশ করেছে।
আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রস্তাবে দেখা গেছে ইরান শর্তসাপেক্ষে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠাতে রাজি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম তাদের কাছে নিয়ে আসা হবে। তবে তেহরান জানিয়েছে, সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র নয়, শর্তসাপেক্ষে রাশিয়ার কাছে পাঠানো হবে।
এ ছাড়া ইরান দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ করার কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি তারা। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য দাবি করছে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।
সংশোধিত প্রস্তাবে ইরান আরও বলেছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ চায় না তারা। তবে এর বদলে অর্থনৈতিক ছাড় দিতে হবে।
ইরানি আলোচকদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরান ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করা। এর আগে যুদ্ধ বন্ধ ও শত্রুতা অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে ৫ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়।