চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রং করা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার নিরসন হয়েছে জানিয়ে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন নিজে গ্রাফিতি আঁকার উদ্বোধন করেছেন। সবাইকে তিনি গ্রাফিতি আঁকার আহ্বান জানিয়ে অনুরোধ করেছেন, সেগুলো যেন দৃষ্টিনন্দন হয়।
সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জুলাই গ্রাফিতি কেউ মুছতে বলেনি। আগেই এগুলো পোস্টারে ঢাকা ছিল। আমাদের পরিকল্পনা ছিল এগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে আবার আঁকা। সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় এটা নতুন করে রং করা হচ্ছিল। পুলিশকে আমি বলেছি ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নিতে। এরপর যার ইচ্ছে এসে গ্রাফিতি আঁকুক। তবে সেগুলো যেন দৃষ্টিনন্দন হয়।’
একই সময়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন ঘোষণা দেন, সন্ধ্যা ৭টায় এনসিপি আবার গ্রাফিতি আঁকতে যাবে।
জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা দুই নম্বর গেট এলাকায় গ্রাফিতি আঁকেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগারপাস এলাকায় গ্রাফিতি আঁকতে যান।
এর আগে রোববার জুলাই গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার অভিযোগ তোলে এনসিপি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে দায়ী করে এনসিপি কর্মসূচির ডাক দিলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এর পরিপেক্ষিতে সোমবার চট্টগ্রামের প্রধান সড়কে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করলে সেই উত্তেজনা পুলিশের সঙ্গে একদল সাধারণ শিক্ষার্থীর দ্বন্দ্বে রূপ নেয়।
এদিন চট্টগ্রামের মূল সড়কে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অবস্থান নেয় একদল সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে আবার গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করেন। তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান তারা। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে অনেককেই রাস্তায় শুয়ে পড়তে দেখা যায়। পরে বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ দেয় শিক্ষার্থীদের একটি দল।
তাদের মধ্যে তানিয়া আকতার নামে একজন বলেন, ‘আমি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পুলিশ আমাকে টানা-হিঁচড়া করেছে।’ এর আগে তারা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের ডিসি আমিরুল ইসলাম বলেন, কিছু লোকজন টাইগারপাস মোড়ে রং নিয়ে এসেছে। এখানে ১৪৪ ধারা চলছে। তাদের বুঝিয়ে চলে যেতে বললে তারা বাগবিতণ্ডায় জড়ান। পরে সরিয়ে দিতে গেলে অনেকে রাস্তায় শুয়ে যায়। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
যারা রং করতে এসেছে, তারা কারা? এমন প্রশ্নের জবাবে আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকে এনসিপি বলছে। তবে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের কর্মসূচি স্থগিত। এদের পরিচয় জানতে পারিনি।’
এর আগে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য সচিব আরিফ মইনুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘গ্রাফিতি অঙ্কনে পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীকেও যদি গ্রেপ্তার করা হয়, আমরা এর শেষ দেখে নেব।’
বিকেলে ষোলশহর দুই নম্বর গেটে এক সংবাদ সম্মেলনে আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, ‘মেয়র শাহাদাত হোসেনের বিবেক শাহাদাত বরণ করেছে। পুলিশ দিয়ে বাধা দিয়ে আমাদের থামানো যাবে না। আমরা সন্ধ্যা ৭টায় আবার গ্রাফিতি করতে যাব।’
সম্প্রতি সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারগুলো রং করাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এসব পিলারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নানা গ্রাফিতি ছিল। এনসিপির অভিযোগ, মেয়র শাহাদাত হোসেন পরিকল্পিতভাবে জুলাই গ্রাফিতি মুছে দিতে চাইছেন। যদিও মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এমন কোনো নির্দেশ তিনি দেননি। সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের আওতায় পিলারগুলো রং করা হচ্ছে।
মেয়র শাহাদত হোসেন বলেন, ‘জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলোও আমরা করিয়েছি। আন্দোলনের ছেলেরা আমাদের সঙ্গে দেখা করেছে। আমরা পকেট থেকে টাকা দিয়ে তাদের উৎসাহ দিয়েছি। আমরা আবার এগুলো করব।’