দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৪নং কুমেদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম আকন্দসহ তিন নেতাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে অব্যাহতি পাওয়া অন্য দুই নেতা হলেন ওই ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতলুবর রহমান মতু এবং ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন।
রোববার (১৭ মে) পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মাহমুদুন নবী চৌধুরী পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে তাদের দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় সকল কর্মকাণ্ড ও পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
দলীয় এই কঠোর অ্যাকশনের নেপথ্যে রয়েছে কুমেদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম আকন্দের একটি অত্যন্ত আপত্তিকর ও চাঞ্চল্যকর অডিও কল রেকর্ড, যা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। ওই বিতর্কিত কল রেকর্ডে ঢাকা থেকে এলাকায় আসা দলের এক শীর্ষ নেতাকে খুশি করার জন্য ১৫-১৬ বছর বয়সী এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে খোঁজার বিষয়ে অনৈতিক আলোচনা করতে শোনা গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় এলাকা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

ফাঁস হওয়া অডিওতে স্পষ্ট শোনা যায়, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম আকন্দ একই ইউনিয়নের মহিলা দলের নেত্রী মুন্নি বেগমের কাছে ঢাকার এক বড় নেতার মনোরঞ্জনের জন্য একজন সুন্দরী ও অল্প বয়সী মেয়ে জোগাড় করে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। প্রত্যুত্তরে মহিলা দলের ওই নেত্রী স্থানীয় এক অত্যন্ত দরিদ্র ভ্যানচালকের মেয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, “একটা মেয়ে আছে অনেক সুন্দর, বাপটা গরীব ভ্যান চালায়।”
নৃশংস ও অনৈতিক এই কল রেকর্ডটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বস্তরের মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও জঘন্য এই মানসিকতার বিরুদ্ধে তীব্র গণ-প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একজন দরিদ্র ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে এভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনাকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও সামাজিক অবক্ষয়ের চরম রূপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সম্ভ্রম নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই ন্যাক্কারজনক চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও জোর দাবি উঠেছে।