Image description

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজার মতো খেলোয়াড় এবং আসাদুজ্জামান নূর ও মমতাজ বেগমের মতো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সংসদ সদস্য হওয়া দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি জগতের জন্য বিরাট ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

তিনি বলেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিঠ চাপড়ে দেওয়ার পর তাদের আর হুঁশ থাকল না, তারা এমপি হয়ে গেলেন।

ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে তার নিজের মতো করে বিকশিত হতে দেওয়া উচিত, এর রাজনীতিকরণ করা ঠিক নয়।’

 

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কবি, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদের কবিতার বই ‘আদিবাসী প্রেমিকার মুখ’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

সাবেক সংসদ সদস্যদের উদাহরণ টেনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাকিব খেলত, মাশরাফি খেলত।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যখন তাদের পিঠ চাপড়ে বললেন ‘এই, তুমি এমপিতে দাঁড়াও’, তখন তাদের হুঁশ নাই হয়ে গেল। তারা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে গেল। এর ফলে আমাদের ক্রীড়া জগতের বিরাট ক্ষতি হলো।

 

আসাদুজ্জামান নূর ও মমতাজ বেগমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আসাদুজ্জামান নূরের মতো লোক, যিনি একজন প্রতিভাবান নাট্যশিল্পী এবং সাংস্কৃতিক নেতা হয়ে উঠেছিলেন, তাকে এখন জেলে থাকতে হচ্ছে।

মমতাজের মতো শিল্পী, যিনি ফোক সংগীতকে টেনে তুলেছেন, তাকে যখন পিঠ চাপড়ে এমপি বানিয়ে দেওয়া হলো, তখন তার জ্ঞান নাই হয়ে গেল।

 

তিনি বলেন, ‘ক্রীড়া ও সংস্কৃতি জগৎকে তার নিজের মতো করে বিকশিত হতে দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার হিসেবে এটাই আমাদের দায়িত্ব। সংস্কৃতিকে বিকশিত হতে দিলে সংস্কৃতিই আপনাকে ধরে রাখবে, জোর করে ধরে রাখতে হবে না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দুরবস্থা দেখে আমি হতবাক হয়েছি।

আমাদের একটা ধারণা ছিল—যারা একটু কালচারাল মাইন্ডের, তারা বোধ হয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকে। কিন্তু দেখলাম, ১৭ বছরে সংস্কৃতিকে বিপন্ন করে তোলা হয়েছে। মারাত্মক লুণ্ঠন হয়েছে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কোনো উন্নতি হয়নি।’

 

বর্তমান সরকারের নীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে সাতবার ডেকেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা সংস্কৃতিকে তার মতো করে বিকশিত হতে দিতে চাই, রাজনৈতিকীকরণ করতে চাই না। রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল কোনো দলের নন, তারা সবার।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা এবং গ্রন্থের লেখক কবি ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদ।