‘নাসির পাটোয়ারীর কপাল খুলে গেলো, মির্জা আব্বাসের আসন শূন্য’ এবং ‘ঢাকা-০৮ আসন শূন্য। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে উপস্থিত না হলে আসন শূন্য হয়। এই সেই আসন। না ওসমান হাদীর হইলো, আর না অন্য কেউ এখনো বসতে পারলো। এবার দেখা যাক কি হয় হাজারো জল্পনা-কল্পনায় ঘেরা এই ঢাকা-৮ আসনের।’ এ ধরেনের ক্যাপশনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে, সংবিধানের [৬৭(১)(ক) অনুচ্ছেদ] অনুযায়ী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে নব্বই দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করায় মির্জা আব্বাসের সদস্যপদ বাতিল হয়েছে।
এ সম্পর্কিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, অন্যান্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গেই শপথ নিয়েছিলেন মির্জা আব্বাস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজ এবং প্রোফাইলে দাবিটি একাধিক ধরনের ব্যাখ্যাসহ পোস্ট করতে দেখা গেছে। এরমধ্যে কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ‘ঢাকা-৮ আসন শূন্য হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে উপস্থিত না হলে আসন শূন্য হয়।’ আবার কিছু পোস্টে বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(১)(ক) অনুচ্ছেদ সূত্র উল্লেখ করে দাবি করা হচ্ছে, ‘সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে নব্বই দিনের মধ্যে (বা স্পিকার কর্তৃক বর্ধিত সময়ের মধ্যে) কোনো সদস্য শপথ গ্রহণ না করলে তার সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হয়।’
অন্যদিকে, সংবিধান-এর ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্যের আসন কয়েকটি কারণে শূন্য হতে পারে। সংবিধানের ৬৭ (১) (ক) এবং (খ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, একজন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হবে যদি তিনি নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ বা স্বাক্ষর করতে ব্যর্থ হন (স্পিকারের বর্ধিত সময়সহ), অথবা সংসদের অনুমতি ছাড়া ৯০টি বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন।
এরমধ্যে ‘নতুন নিয়মে ৪৫ দিন অসুস্থ থাকলে পুনর্নির্বাচন করার নিয়ম করা হয়েছে’ দাবিতে ফেসবুকে প্রচার করা হয়। সে দাবি সম্পর্কিত এশিয়া পোস্টের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে।
তবে মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তা প্রমাণিত হয় এমন বেশকিছু সংবাদ পাওয়া যায়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণ শেষে সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার পথে মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার সময় এখনও হয়নি।’ এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ দেখুন এখানেএবং এখানে।
অর্থ্যাৎ, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা পৌনে ১১টার দিকে সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মির্জা আব্বাস। প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে তার শপথের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। (গত ১১ মার্চ) ইফতারে পানি পান করার সময়ই হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। এরপর থেকে তিনি দেশে এবং বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে অসুস্থ থাকায় তার সংসদীয় আসন শূণ্য ঘোষণা হওয়া সম্পর্কিত দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।