জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দীন বলেছেন, গ্রাফিতি অঙ্কন করার সময় পুলিশ জুলাইয়ে সম্মুখসারির নারী যোদ্ধাদের গায়ে হাত দিয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দিলে কী হয় পুলিশ জুলাই থেকে শিক্ষা নেয়নি।
সোমবার (১৮ মে) বিকেল চারটার দিকে নগরের ষোলোশহরে জাতীয় নাগরিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রোববারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরিফ মাঈনুদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারের পিলারের প্রায় সবগুলোর গ্রাফিতি মেয়র শাহাদাত যখন মুছে দিয়ে সেখানে বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া হবে বলে প্রচার করে তখন আমরা সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিক্রিয়া জানাই।
পরে আমরা মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট চলে আসি। তারা মিছিল নিয়ে লালখানবাজার চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, উনি জুডিশিয়াল রায়ের মাধ্যমে মেয়র হয়েছেন। জনগণের ভোটে তিনি মেয়র হননি। ওনার ন্যূনতম লজ্জাবোধ নাই। উনি আবার সেটা সব জায়গায় বলে বেড়ান জুডিশিয়াল রায়ের মাধ্যমে মেয়র হয়েছি। মেয়র পদে জোরপূর্বক উনি বসে আছেন। আমরা চাই আপনি থাকেন কিন্তু মেয়র হিসেবে নয় প্রশাসক হিসেবে।
বিপ্লব উদ্যান মানুষের একটি অবকাশ যাপনের জায়গা। সন্ধ্যায় নগরের মানুষ বউ-বাচ্চা নিয়ে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত জায়গা এটি। যেখান থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি এখানে রয়েছে। উনি সে জায়গা দখল করে চারতলা করে দুটি মার্কেট করছেন। পুরো শহরের সমস্ত জায়গায় ফুটপাত দখল করে রেখেছে। ফুটপাতে দোকান বসিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের বরাদ্দ দিয়েছেন। ফুটপাত কারও বাপের জায়গা না। এটি জনগণের হাঁটার-চলাফেরা করার জায়গা।
বৃষ্টি হলে উনি একটা জ্যাকেট গায়ে দিয়ে নেমে যান। কেন উনি বৃষ্টি হওয়ার আগে জানেন না কোথায় জলাবদ্ধতা হবে? একজন মেয়র কেন জানবেন না নগরের জলাবদ্ধতার বিষয়ে? মশার কারণে ভালোমতো কোথাও বসা যায় না। পুরো শহর মশায় ভর্তি হয়ে গেছে। উনি কীভাবে সিটি করপোরেশনের মেয়র। উনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।
আওয়ামী লীগের আমলে তিনি কীভাবে ১৬টি গাড়ির মালিক হন, সেটি আমরা জানতে চাই। আমরা সব জানি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের রাজনীতি করেছেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারের পিলারের প্রায় সবগুলোর গ্রাফিতি মেয়র শাহাদাত কেন মুছে দিয়েছেন সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। শুধু মুছে তিনি ক্ষান্ত হননি। বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে মর্মে তিনি সেখানে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন। ইস্পাহানি মোড় থেকে টাইগারপাস মোড় পর্যন্ত বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে বলে রেস্ট্রিকটেড করে ফেললেন।
তিনি আরও বলেন, আবেগের জায়গা থেকে আমাদের ভাইবোনেরা সেখানে গিয়েছিলেন। হঠাৎ করে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। আমাদের অবস্থান ছিল এতটুকুই। পরে আমরা যখন সেখান থেকে চলে আসার চেষ্টা করি তখন কয়েকশো বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে লালখানবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যায়।