Image description

কল্পবিজ্ঞানের কোনো সিনেমায় নয়, একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এবং বিপজ্জনক ভূরাজনৈতিক খেলাটি এখন চলছে পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশির শত শত ফুট নিচে। প্রায় তিন দশক ধরে বিশ্ববাসী জেনে এসেছে, হরমুজ প্রণালী মানেই তেলের রাজনীতি, যুদ্ধজাহাজের টহল আর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান প্রবেশদ্বার।

কিন্তু দৃশ্যপটের আড়ালে, সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে নিঃশব্দে বয়ে চলা মানুষের চুলের মতো পাতলা কিছু ফাইবার অপটিক কেবল এখন বদলে দিচ্ছে আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞা। এই কেবলগুলো দিয়ে কোনো তেল বা গ্যাস যায় না, যায় আধুনিক পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান উপাদান—‘ডেটা’ বা তথ্য।

 

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলের ট্যাংকার অবরোধ বা টোল আদায়ের চেষ্টায় সফল হয়ে তেহরান এবার নজর দিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির আরেকটি সংবেদনশীল স্নায়ুকেন্দ্রে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই তেহরানের ক্ষমতাসীন সরকার, রাজনৈতিক মহল, সামরিক নীতিনির্ধারক ও রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলো এক অভিনব সমীকরণ সামনে এনেছেন।

ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে রিয়াদ, সবার কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ: পারস্য উপসাগরের তলদেশে বিছানো আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলগুলো কি তবে ইরানের নতুন ‘নীরব অস্ত্রে’ পরিণত হতে যাচ্ছে? সিএনএন-এর প্রতিবেদনসহ আইটি বিশেষজ্ঞ এবং ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চুলচেরা বিশ্লেষণ এই আশঙ্কার পেছনে এক নতুন বৈশ্বিক বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরান ইতিমধ্যেই কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা।

তবে তেলের চেয়েও বড় আতঙ্ক এখন সমুদ্রের তলদেশে; কারণ ইরান যদি হরমুজ প্রণালীর নিচে থাকা সাবমেরিন কেবলগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তবে বিভিন্ন দেশে শুধু ইন্টারনেট বিভ্রাটই ঘটবে না, বরং পুরো বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা মুহূর্তের মধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে।

 

প্রণালীর নিচে লুকানো গোপন ‘ডেটা-ধমনী’
জ্বালানি বা তেলের ক্ষেত্রে ট্যাংকারগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠে দৃশ্যমান থাকে এবং স্যাটেলাইট বা নৌ-তথ্যের মাধ্যমে সেগুলোকে সহজেই ট্র্যাক করা যায়। কিন্তু আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতির আসল প্রাণভোমরা মূলত সমুদ্রতলের নিচে লুকিয়ে থাকা ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, যা ইউরোপ, এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে ইন্টারনেটে বিপুলসংখ্যক আর্থিক ও বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান করে।

টেলিকম অবকাঠামো গবেষণা ও পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘টেলিজিওগ্রাফি’ ও ‘টাটা কমিউনিকেশনস’-এর তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের জলসীমা দিয়ে অন্তত সাতটি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল সিস্টেম অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
• ফ্যালকন (Falcon): যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ভারতের সাথে যুক্ত করেছে।
• জিবিআই (Gulf Bridge International): উপসাগরীয় অঞ্চলের ভেতরের যোগাযোগ ও ইউরোপের সাথে সংযোগের প্রধান মাধ্যম।
• টিজিএন-গালফ (TGN-Gulf): এটি একাই ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরবকে বৈশ্বিক মূল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করেছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ তাদের এক প্রতিবেদনে সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলকে ‘চাপ সৃষ্টির মোক্ষম হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের ভাষ্যমতে:
“যদি তেল বিংশ শতাব্দীর জ্বালানি হয়ে থাকে, তবে ডেটা একবিংশ শতাব্দীর জ্বালানি। আর ইরান এখন এই দুই কৌশলগত পথের ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে।”

গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট ও আমাজনের মতো টেক জায়ান্টরা তাদের এশিয়ান এবং ইউরোপীয় ডেটা সেন্টারের সংযোগের জন্য এই রুটের ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল। এমনকি আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা ‘সুইফট’ (SWIFT)-ও একই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন সচল রাখছে। ইরানের আরেক গণমাধ্যম ‘মাশরেক নিউজ’ এই সমুদ্রতলের কেবলগুলোকে ‘ইরানের নীরব অস্ত্র’ বলে অভিহিত করেছে, যা সেন্টকম (যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড) ও তার মিত্রদের অচল করে দিতে পারে।

ইরানের প্রস্তাবিত ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ও টেক জায়ান্টদের হুমকি
এই কৌশলগত আলোচনা কেবল সংবাদমাধ্যমের পাতার তাত্ত্বিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ইরানের আইনসভা বা পার্লামেন্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত সপ্তাহে তেহরানের আইনপ্রণেতারা একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়াকে যুক্ত করা সাবমেরিন কেবলগুলো।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশের জলপথে সাবমেরিন ডেটা কেবল-সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম—যেমন নতুন রুট ডিজাইন করা, কেবল স্থাপন, পরিচালনা, মেরামত কিংবা রুট পরিবর্তনের জন্য ইরান সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে। শুধু তা-ই নয়, এসব কার্যক্রমের বিপরীতে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ট্রানজিট বা লাইসেন্স ফি আরোপ করতে চায় ইরান। এমনকি এসব কেবলের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের একচেটিয়া অধিকার থাকবে কেবল ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।

বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জুলফিকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আমরা ইন্টারনেট কেবলের ওপর ফি আরোপ করব’। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই অর্থ পরিশোধ করা না হলে আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদানে কৃত্রিমভাবে বিঘ্ন ঘটানো হতে পারে।

আইটি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের চোখ: কতটা গভীর এই সংকট?
আইটি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ইরানের এই নতুন কৌশলকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। আন্তর্জাতিক টেলিকম গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফি (TeleGeography)-র গবেষণা পরিচালক অ্যালান মলডিন বিষয়টির প্রযুক্তিগত গভীরতা ব্যাখ্যা করে বলেন, “সমুদ্রতলের কেবলগুলোর মূল দুর্বলতা হলো এদের ভৌগোলিক একমুখী বিন্যাস বা ‘কনসেন্ট্রেশন’। হরমুজ প্রণালী যেখানে মাত্র ২১ নটিক্যাল মাইল চওড়া, সেখানে সাবমেরিন কেবলগুলোর এভাবে গুচ্ছ আকারে থাকা একেকটি ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট অব ফেইলিওর’ বা একক দুর্বলতার কেন্দ্র তৈরি করে।”

মলডিন আরও নিশ্চিত করেন যে, এই অঞ্চলের ‘ফ্যালকন’ এবং ‘গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল’ (জিবিআই) নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেবল সরাসরি ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়েই গেছে। তবে মোস্তফা আহমেদ তাঁর এক গবেষণা প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, অনেক আন্তর্জাতিক অপারেটর সচেতনভাবেই ইরানের জলসীমা এড়িয়ে ওমান অংশে একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বেশির ভাগ কেবল নিয়ে গেছে।

ভূরাজনৈতিক ও জ্বালানি বিশ্লেষক মাশা কোটকিন সতর্ক করে বলেন, “কেবল ক্ষতিগ্রস্ত বা বিঘ্নিত হওয়ার অর্থ শুধু ফেসবুক-ইউটিউব বন্ধ বা অনলাইন গেমিং ও স্ট্রিমিং ব্যাহত হওয়া নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব বাণিজ্যে। ডেটা ধীরগতির হওয়া বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অর্থ হলো ই-কমার্স স্থবির হওয়া, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং, দূরবর্তী কর্মসংস্থান এবং সামরিক যোগাযোগ ও এআই ক্লাউড অবকাঠামো মুহূর্তের মধ্যে ঝুঁকিতে পড়া।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়া টুডে-র তথ্যমতে, এই অঞ্চলের সাবমেরিন কেবলগুলো এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ রক্ষার পাশাপাশি অঞ্চলগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিচালনা করে থাকে। প্রখ্যাত বৈশ্বিক বিশ্লেষক মারিও নাউফালের মতে, কেবল লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়েই বিশ্বের মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ১৭ শতাংশ প্রবাহিত হয়। এর মধ্যে আমাজন, মাইক্রোসফট ও গুগল সমর্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ‘এআই হাব’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোগুলোও রয়েছে। ফলে এখানে আঘাত লাগলে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি সরাসরি মুখ থুবড়ে পড়বে।

কোটকিন আরও মনে করেন, সক্রিয় যুদ্ধাবস্থায় কোনো জাহাজ যখন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সমুদ্রে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে এবং তার নোঙর সমুদ্রের তলদেশে টেনে নিয়ে যায়, তখন কেবল ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। ২০২৪ সালে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর হামলার শিকার হওয়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজের নোঙরের টানে ৩টি কেবল ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

মেরামত সংকটের নতুন ফাঁদ ও আইনি জটিলতা
আইটি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবমেরিন কেবল কাটার চেয়েও বড় প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি হতে পারে এর মেরামত প্রক্রিয়া নিয়ে। অ্যালান মলডিন স্পষ্ট করেছেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রে বিশেষায়িত মেরামতকারী জাহাজ পাঠানো এবং তাদের বীমার খরচ বহন করা লাইসেন্সধারী কোম্পানিগুলোর জন্য দুঃস্বপ্ন। যদি ইরান নিরাপত্তার অজুহাতে বা পারমিট দেওয়ার ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করে মেরামত কাজ আটকে রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ডিজিটাল অর্থনীতি কয়েক ঘণ্টা নয়, বরং কয়েক মাস পর্যন্ত পঙ্গু হয়ে থাকতে পারে।

হুমকির পরিধি কেবল হরমুজ প্রণালীতেই সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব এল-মান্দেব’ প্রণালীর নিচে থাকা কেবলগুলোও এখন চরম ঝুঁকিতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যেই আলোচনা ছড়িয়েছে যে, ইরান সরাসরি নিজে না জড়িয়ে, লোহিত সাগরে তাদের মিত্র হুথি আনসারুল্লাহ বাহিনীকে ব্যবহার করে এই ফাইবার অপটিক কেবলগুলো কেটে ফেলতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য কোনো সংস্থা এই হুমকির আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করেনি, তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কেবলগুলোকে কার্যকর চাপের উপকরণে পরিণত করতে ইরানকে সম্ভবত কোনো কেবল সরাসরি কাটতে হবে না; শুধু রক্ষণাবেক্ষণের নিয়ম কঠিন করে, নতুন প্রকল্পের অনুমোদন আটকে কিংবা কেবল স্থাপনকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে আইনি বেড়াজালে ধীরগতির ও জটিল করে তুললেই তা উপসাগরীয় দেশগুলোর ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

শেষ কথা: যুদ্ধের নতুন ব্যাকরণ
প্রযুক্তির এই যুগে এসে স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রথাগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের (যেমন বিমানবাহী রণতরী বা পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট) সাথে সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধ করা ইরানের পক্ষে বেশ কঠিন। তাই তেহরান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তার ‘অসম প্রতিরোধ কৌশল’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে নতুনভাবে সাজাচ্ছে।

সমুদ্রের তলদেশে ডিজিটাল অবকাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করে ইরান মূলত বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এমন এক অদৃশ্য কিন্তু মারাত্মক চাপ তৈরি করতে চায়, যা বড় শক্তিগুলোকে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে শতবার ভাবতে বাধ্য করবে। পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের নিচে লুকানো এই ডিজিটাল ধমনী নিয়ন্ত্রণ করার সূক্ষ্ম হুমকি দিয়ে তেহরান মূলত বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে—ভবিষ্যতের যুদ্ধ কেবল বারুদ আর কামানের গোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বের প্রতিটি কম্পিউটার, এআই হাব আর ব্যাংকিং স্ক্রিনেও।