বাংলাদেশ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত জায়গা করে নেওয়া এক রাজনৈতিক স্লোগান ‘খেলা হবে’। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এই ‘খেলা হবে’ স্লোগানই হয়ে উঠেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান হাতিয়ার।
বিজেপিকে ঠেকাতে ‘খেলা হবে’ গানও বাঁধা হয়েছিল। আর তাতে শেষপর্যন্ত ধরাশায়ী হতে হয় কোমর বেঁধে মাঠে নামা বিজেপিকে।
‘খেলা হবে’ স্লোগানের আদি উৎপত্তি বাংলাদেশে। আওয়ামী লীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান প্রথম ২০১৩ সালে এই স্লোগানটি ব্যবহার করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জে এক সমাবেশে বিএনপি ও জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কারে খেলা শেখান? আমরা তো ছোটবেলার খেলোয়াড়।
এরপরেই আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখে ছড়িয়ে পড়ে এই স্লোগান। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মুখে একাধিকবার শোনা গেছে ‘খেলা হবে’।
সীমান্ত পেরিয়ে এই স্লোগান পৌঁছে যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির উদ্দেশে বিভিন্ন সময় এই স্লোগান দিয়ে আলোচিত হন। এরপর ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী সংগীত হিসেবে বেছে নেয় ‘বন্ধু এবার খেলা হবে…’।
তরুণ দেবাংশু এই গান লিখে রীতিমতো তারকা বনে যান। এর আগে ছিলেন তৃণমূলের একজন সাধারণ সমর্থক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করতেন। তবে ‘খেলা হবে’ গানেই খুলে যায় কপাল।
২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের সমর্থনে তাঁর লেখা এই গান রাজ্য ও রাজ্যনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দায়িত্ব পান তৃণমূলের আইটি সেলের। এই তরুণ তুর্কিকে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তমলুক থেকে প্রার্থীও করা হয়। তবে জিততে পারেননি।
সবশেষ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে চূঁচূড়া থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয় তৃণমূল। এজন্য দলটি চুঁচুড়ার বর্তমান বিধায়ক অসিত মজুমদারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছিল এবার দেখাবেন ‘আসল খেলা’। তবে গেরুয়া ঝড় পশ্চিমবঙ্গে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তাতে উড়ে যেতে বসেছেন ‘খেলা হবে’ গানের স্রষ্টাও। শেষ খবর পর্যন্ত তাকে পেছনে ফেলে ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বিজেপির সুবীর নাগ। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি দেবাংশু ভট্টাচার্যের খেলাও এবার শেষের পথে।