Image description

রংপুর জেলায় তীব্র জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ পাম্প। সীমিত পরিসরে চালু থাকা কিছু পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে তেল নিতে দেখা গেছে সেবা প্রার্থীদের।

 

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রংপুর নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগরীর ব্যাংকের মোড়ে অবস্থিত ফিলিং স্টেশন, সিওবাজার এলাকার আজাদ ফিলিং স্টেশনসহ অধিকাংশ পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও ঢাকা রংপুর হাইওয়ে সড়কের পলাশবাড়ী থেকে মডার্ন মোড় পর্যন্ত হাইওয়ে সড়কের দুই পাশে কিছু পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও অধিকাংশ পাম্প জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে।

 

মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাট এলাকার সঞ্চিতা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর এলাকার শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমি পীরগঞ্জ থেকে আসলাম। রংপুর যাচ্ছি। পাঁচ থেকে ছয়টি পাম্প ঘুরে তেল পাইনি। একটি পাম্পে তেল দিলেও লম্বা লাইনের কারণে নিতে পারিনি। এখানে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিলাম। এই তেল নিয়ে ঘুরে বাড়িতে যেতে পারবো না। আমরা সাধারণ মানুষ তেল নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’

 

বৈরাগীগঞ্জ এলাকার শাহ আমানত ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা পুলিশ সদস্য সানোয়ার বলেন, ‘পলাশবাড়ি থেকে রংপুর যাবো। চারটি পাম্পে ঘুরে তেল পাইনি। এখানে এসে তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেছি। আমার দরকার ৬০০ টাকার তেল। এরা দিলো ৩০০ টাকার তেল। সামনে আবার কোন পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হবে।’

 

মেসার্স সঞ্চিতা ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী টিটুল বলেন, ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল বিক্রি করছি। আমরা চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় কম কম করে সবাইকে দিতেছি। অনেকে এসে রাগারাগি করছে। আমাদেরতো করার কিছু নাই। আশেপাশে বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ।

 

এ বিষয়ে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার মেসার্স ইউনিক ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারুফুল ইসলাম সিফাত এশিয়া পোস্টকে বলেন, সাধারণ আমাদের পাম্পে দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী ৯০০০ লিটার তেল দিতো। রেশনিং আসার পরে চাহিদা মাফিক তেল পাচ্ছি না। আজকে শুধু পেট্রোল আসবে ২০০০ লিটার। গাড়ি অর্ধেক ফাঁকা রেখেই তেল নিয়ে চলে আসছে।

 

তিনি আরও বলেন, ঈদের মার্কেটে দৈনিক ২০ হাজার লিটার তেল হলেও কম পড়বে। অথচ আজ ডিজেল পাইনি। এখন কম কম করে সব গাড়িকে তেল দেওয়া হচ্ছে। এখন যে মজুত আছে, সরবরাহ সময়মতো এসে না পৌঁছলে বিকাল হতে মজুত ফুরিয়ে যাবে।