যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে ঈদের তৃতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর ব্যস্ততম নৌ টার্মিনাল সদরঘাটে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও কোনো চাপ নেই। নেই কোনো ভোগান্তি। ছুটি বেশি হওয়ায় মানুষ এবার ধীরে ধীরে গ্রামে যাচ্ছে।
এদিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের তৃতীয় দিনও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘাটে আসতে নগরবাসী। কেউ যাচ্ছেন চাঁদপুর, হাতিয়া, ভোলা, ইলশা, বেতুয়া, কালিগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে নৌপথে যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে ইচ্ছা করেই ঈদের পর গ্রামে যাচ্ছে। একইসঙ্গে ঈদের পরে তুলনামূলক ভিড় কম থাকে, সে বিবেচনায় এই দিনটি বেছে নিয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করেছে, এখন আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে যাচ্ছেন তারা।
শৌলা-মুলাদি রুটে চলাচল করে অভিযান-৫ লঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রী ডাকছেন স্টাফ মো. আল মামুন।
একই লঞ্চের যাত্রী মো. শাহীন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকায় রিকশা চালাই। ঈদের সময় যাত্রী ও ভাড়া বেশি পাওয়া যায়, এজন্য বাড়ি যাইনি। এখন যাচ্ছি, পকেটে কিছু টাকাও আছে, যাতে বাড়িতে গিয়ে পরিবার নিয়ে কিছু দিন আনন্দে কাটাতে পারি। অন্যান্য বছরও আমি ঈদের দুই-তিন দিন পরে বাড়ি যাই। কিন্তু এবারের মতো এতো যাত্রী কোনোবারই পাইনি।
মনপুরা-হাতিয়া রুটে চলাচল করে এমভি তাসরিফ-২ লঞ্চের কেবিন ইনচার্জ মো. আব্দুস শহীদ বলেন, এখনও মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। আজকে গত দুই দিনের তুলনায় ভিড় একটু কম। আমাদের ১০৭টি কেবিনের মধ্যে ৮০টি বুক হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছেড়ে যাবে।
একই লঞ্চের যাত্রী রুবেল শেখ যাবেন হাতিয়া। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকায় ফলের দোকান আছে। ঈদের আগে ও পরে যারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যায়, তারা কিছু ফল কিনে নেয়। যা অন্য যেকোনো সময়ের থেকে বেশি বেচা হয়। আর ব্যবসা যেহেতু করি, যেখানে লাভ আছে, সেখানে আমিও আছি। এজন্যই এখন যাচ্ছি। আরও একটা কারণ আছে, মানুষ যখন গ্রাম থেকে ঢাকায় আসবে, তখন তাদের পকেট বেশির ভাগ ফাঁকা থাকে, তখন কেউ ফল কিনে না। আমাদেরও বেকার বসে থাকতে হয়। সবদিক বিবেচনায়, ঈদের দুই দিন পরেই আমি বাড়ি যাই।
জানা গেছে, নতুন সরকারের আমলে যাত্রীসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিআইডব্লিউটিএ। সদরঘাটকে আরও সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি চালু করা হয়েছে একগুচ্ছ নতুন সুবিধা। ঈদের আগে পাঁচ দিন ও পরে পাঁচ দিন, মোট ১০ দিনের জন্য যাত্রীদের জন্য ফ্রি কুলি (পোর্টার) সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ নিজস্ব অর্থায়নে কুলিদের মজুরি দিয়ে নিয়োগ করায় যাত্রীরা কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছেন না।
মালামাল বহনের সুবিধার জন্য বিমানবন্দর থেকে আনা হয়েছে ১০০টি ট্রলি, যা যাত্রীরা নিজেরাই ব্যবহার করতে পারবেন। অসুস্থ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ারের সংখ্যা বাড়িয়ে ২০টি গেটে মোট ৪০টি রাখা হয়েছে। ক্যাডেট সদস্যরা এতে সহায়তা করছেন। এ ছাড়া চাপ সামলাতে অতিরিক্ত দুটি ঘাট চালু করা হয়েছে। লঞ্চ মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উপলক্ষে ভাড়া ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত স্বস্তি যোগ করেছে।
লঞ্চ টার্মিনালে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের অফিসের বার্থিং সারেং মো. মনিরুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, আজ সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে দেশের ৩৭টি রুটে ৪৫টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। আর ঢাকায় এসেছে ৬০টি লঞ্চ। আজ রাত ১২টা পর্যন্ত আনুমানিক ৭০টি লঞ্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে। আর গতকাল ৭৬টি লঞ্চ দেশের ৩৭টি রুটে ছেড়ে গেছে।