পটুয়াখালীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকেই।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, শহর ও আশপাশের অন্তত ৫টি পাম্পে এই সংকট বিরাজ করছে। এসব পাম্পের মধ্যে রয়েছে শিয়ালী বাজারের খন্দকার ফিলিং স্টেশন, টোলপ্লাজা সংলগ্ন সরকার ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার রূপালী ফিলিং স্টেশন, বসাকবাজারের পায়রা ফিলিং স্টেশন এবং শাখারিয়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশন।
প্রতিটি স্টেশনের পেট্রোল ও অকটেন বুথে ‘পেট্রোল শেষ’ বা ‘অকটেন শেষ’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলতে দেখা যায়। ফলে তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে চালকদের।
মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, শুধু এ পাম্পগুলোই নয়। পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত পাম্পগুলোর কোনোটিতেই তেল পাচ্ছেন না তারা।
জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই এসব পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আপাতত কিছু পাম্পে ডিজেল পাওয়া গেলেও সেটিও দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চালকদের অভিযোগ, পাম্পে তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাইরে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। এতে তাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
পটুয়াখালী চৌরাস্তা থেকে বাউফল-কালাইয়াগামী মোটরসাইকেল চালক মো. আরিফ হোসেন বলেন,
আমাদের ভরসা হচ্ছে পেট্রোল পাম্পগুলো। কিন্তু এখানে এসে তেল পাচ্ছি না। দুই তিনটা পাম্প ঘুরছি, কোথাও তেল নেই। পথের বিভিন্ন দোকানের লোকজনও বলছেন তেল নেই। কয়েকটা দোকানে অল্প-স্বল্প পাওয়া গেলেও তারা দাম রাখছেন বেশি।
সরকার ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য পেট্রোল নিতে আসা পটুয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশ সদস্য টিটু দেবনাথ বলেন, আমি এক জায়গায় দাওয়াতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু মোটরসাইকের তেল একদম শেষ। এখন কীভাবে যাব বুঝতেছি না, একটা ভোগান্তিতে পড়তে হল।
ঈদের ছুটি শেষে নিজস্ব মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে চাঁদপুরে যাচ্ছিলেন এনজিও কর্মী মো. হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটি শেষ তাই চাঁদপুরে যাব কিন্তু মোটরসাইকেলে তেল নেই। পাম্পে এসে দেখি তেল নেই। এখন কীভাবে যাব দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আর মোটরসাইকেল না নিলে সেখানে কাজ করতেও ভোগান্তির সম্মুখীন হব। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ যাতে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেন।
রূপালী ফিলিং স্টেশনের কর্মী মো. শাকিল হোসেন বলেন, ঈদের আগে আমরা তেল পাইছি, এরপর তো ডিপো বন্ধ হইয়া গ্যাছে। আমাদের যে চাহিদা ওই পরিমাণ তেল দেয় না। পটুয়াখালীর সব কয়টা ফিলিং স্টেশনের তেল শেষ হইয়া গ্যাছে।
সরকার ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের মিটারম্যান মুন্না বলেন, সকাল থেকে এ যাবত তিনশরও বেশি মোটরসাইকেল ফেরৎ গেছে তেল না পেয়ে। তেল নেই এটা তাদের বলতে বলতেও আমরা ক্লান্ত। তবে আশা করি, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, মূলত ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
সরকার ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সজল কুমার পাইন বলেন, আমরা বরিশালের যমুনা ডিপো থেকে তেল নিই। গত ২-৩ দিন ডিপো বন্ধ থাকায় আমরা তেল পাইনি। আমাদের এ কয়দিন চলার মতো তেলও আগে ডিপো থেকে দেয়নি। ডিপোর লোক বলছে, তাদেরও নাকি একটা সীমাবদ্ধতা আছে। জনসাধারণ তো বলছে, কেন তেল পাব না। সরকার তো বলছে তেলের সংকট নেই। এসব বিষয় নিয়ে তাদের সাথে বাগবিতণ্ডারও সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। তবে আমরা আশা করি দ্রুতই এমন সমস্যার সমাধান হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ঈদের পরবর্তী সময়ের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।