ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস (ডব্লিউসিএল) টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসরে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। নতুন দল যুক্ত হওয়ায় এবারের আসরে প্রতিযোগিতা আরও জমজমাট হওয়ার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।
এর আগে এই টুর্নামেন্টে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে দল অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাতটিতে।
ক্রিকেটের অবসরপ্রাপ্ত কিংবদন্তিদের নিয়ে আয়োজিত এই লিগ ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যুবরাজ সিং, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ব্রেট লি, মোহাম্মদ হাফিজ ও ক্রিস গেইলের মতো তারকারা আগের আসরগুলোতে খেলেছেন। আয়োজকদের আশা, বাংলাদেশের যোগদানে ২০২৬ আসরে প্রতিযোগিতার মান আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দর্শকপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় ক্রিকেট লিগ হিসেবে প্রচারিত ডব্লিউসিএল অল্প সময়েই বড় দর্শকশ্রেণি তৈরি করেছে। উদ্বোধনী আসর দেখেছেন ৩২৫ মিলিয়নের বেশি দর্শক, আর দ্বিতীয় আসরে দর্শকসংখ্যা ছিল ৪২৩.১ মিলিয়ন, যা টুর্নামেন্টটির বৈশ্বিক প্রসারকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ডব্লিউসিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হার্শিত তোমর বলেন, গত দুই বছর ধরে সমর্থকদের অনুরোধের পরই বাংলাদেশ দলকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের প্রতিনিধিত্বকারী জেসিইউকে স্পোর্টস লিমিটেডের পরিচালক ইউনুস হাসান এই সিদ্ধান্তকে দেশের ক্রিকেটভক্তদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সমর্থকদের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে।
দলের সহ-মালিক ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘ডব্লিউসিএল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের অংশ হতে পারা আমাদের জন্য বড় সম্মানের বিষয়। এই টুর্নামেন্টকে কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ হিসেবে ধরা হয়। আমরা বিশ্বাস করি, এতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। টুর্নামেন্টের জন্য আমরা বাংলাদেশের সব কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি শক্তিশালী দল গঠন করতে চাই।’
ইতোমধ্যেই সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল ও মাহমুদউল্লাহ বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সে খেলতে সম্মতি দিয়েছেন। দলের শক্তি বাড়াতে আরও কয়েকজন পরিচিত তারকাকে দলে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সাদেক।
বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ফলে আসন্ন ডব্লিউসিএল আসরটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।