গাইবান্ধার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার থাকলেও স্থানীয় হাট-বাজারে বোতলে করে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। পাম্পে তেল না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা ব্যাহত হয়ে এক রোগীর মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। সরকার নির্ধারিত পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা হলেও বাইরের খুচরা বাজারে তা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পাম্প থেকে তেল সরিয়ে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি গাইবান্ধা শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ আছে, অনেক পাম্পে মজুত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের তেল না দিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। একই অবস্থার সৃষ্টি করেছে সাদুল্লাপুরের শাহানা ফিলিং স্টেশনেও। এখানে কিছু মজুত তেল সংকট দেখিয়ে গোপন বিক্রি করছেন খুচরা বাজারের দোকানিদের কাছে।
এছাড়া তেল সংকটের কারণে ফুলছড়ি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় উন্নত চিকিৎসার অভাবে খোকা মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
মোটরসাইকেল চালক জাকিরুল ইসলাম বলেন, পাম্পে তেল সংকট থাকলেও আশপাশেই বোতলে করে বেশি দামে সেই তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে পাম্পে সরবরাহ সীমিত রেখে বাইরে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে।
আরেক ভুক্তভোগী সানা মিয়া বলেন, সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। পাম্পে তেল না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অথচ খোলা বাজারে সেই তেলই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানির এই সংকট ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়েছে কৃষিখাতেও। কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, সেচ মৌসুমে ডিজেলের অভাবে জমিতে পানি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে যা তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। এতে করে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তি বলেন, ফিলিং স্টেশন গুলোতে ঘুরতে ঘুরতে তেল না পেয়ে মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে গেছে। এক দোকান থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে এক লিটার তেল কিনছি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ফিলিং স্টেশন মালিক জানিয়েছেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। চাহিদা বেশি হওয়ায় যে পরিমাণ তেল আসে, তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাইলাতুল হোসেন বলেন, যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।