Image description
 

ইউক্রেনের জন্য ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বরাদ্দ করা ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের ঋণ আটকে দিয়েছে হাঙ্গেরি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তো। দ্রুজবা পাইপলাইন আটকে দেওয়ার মাধ্যমে ইউক্রেন ইইউ-ইউক্রেন সহযোগিতা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, এবং ইইউর প্রতি ইউক্রেনের যে প্রতিশ্রুতি তা লঙ্ঘন করেছে। আমরা এ ধরনের ব্ল্যাকমেইল সহ্য করব না। এ কারণে হাঙ্গেরি ইউক্রেনের জন্য ইইউর বরাদ্দ করা ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের ঋণ আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউক্রেন যতদিন দ্রুজবা পাইপলাইন আটকে রাখবে ততদিন এ ঋণও স্থগিত থাকবে। খবর ইউরো নিউজের।
রুশ শব্দ দ্রুজবা-এর বাংলা অর্থ মৈত্রী বা বন্ধুত্ব। ১৯৬৪ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলে রাশিয়া থেকে ইউক্রেন, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক রিপাবলিক ও জার্মানিতে সরাসরি তেল সরবরাহের জন্য এই পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছিল। গত ২৭ জানুয়ারি রাশিয়াকে চাপে ফেলতে এই পাইপলাইন বন্ধ করে দেয় ইউক্রেন। এখনো এটি বন্ধই আছে। এর আগে মার্কিন মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। যদিও দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আলোচনায় অগ্রগতির দাবি করেছে। শান্তি আলোচনার মধ্যেও চলছে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা।

 

ইউক্রেনের দোনেৎস্কে গত বৃহস্পতিবার ব্যাপক হামলা চালায় রুশ সেনারা। তাদের ড্রোন হামলায় স্থানীয় একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জাপোরিজিয়া অঞ্চলে আরেক আক্রমণে নারী ও শিশুসহ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এ ছাড়া এসব হামলায় বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছেন স্থানীয় গভর্নর।
জবাবে কুরস্ক ও জাপোরিজিয়া অঞ্চলে পুতিন বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গুলি ও ড্রোন হামলায় কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ক্রাসনোদর অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এদিকে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দুই দিনব্যাপী শান্তি আলোচনা শেষ হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৈঠক মাত্র দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। আলোচনার বিষয়বস্তু বা কোনো বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে রাশিয়া ও ইউক্রেন কোনো পক্ষই বিস্তারিত কিছু জানায়নি।