Image description
 

আঞ্চলিক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দুই নেতা শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সংলাপ এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পাকিস্তান-ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও পরামর্শ বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারেও তারা একমত হন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনশীল বাস্তবতা নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে এবং তারা একমত হয়েছেন যে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তিনি বলেন, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে পাকিস্তান-ইরান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এই ফোনালাপের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন, যার মধ্যে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সীমিত হামলার বিকল্পও রয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ফোনালাপে ইসহাক দার আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, সংলাপ ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র কার্যকর উপায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন। এর আগেও শনিবার দুবাই সফরের সময় ইসহাক দারকে ফোন করেছিলেন আব্বাস আরাগচি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পাকিস্তানের অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। জেনেভায় অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে ইরান-সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভোট আহ্বান এবং প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ইরানের বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধান মিশনের মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বাড়ানোর একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়া সাতটি দেশের মধ্যে পাকিস্তান ছিল একটি। ভারতের ও চীনের পাশাপাশি পাকিস্তানও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে ভোট দেয়। সূত্র: মেহের নিউজ, ডন

শীর্ষনিউজ