শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর নেতা নিহতের ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলমকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসানকেও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গতকাল এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এদিকে নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। পরে শ্রীবরদী কলেজ মাঠে রেজাউল করিমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এদিকে রেজাউল করিম নিহতের প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছে জামায়াত।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এ ঘটনা ইঙ্গিত করে অসহিষ্ণুতা। অন্যের বিজয় দেখে নিজের সহ্য হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যায়িত করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছে বিএনপি।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার এজাহার লেখার কাজ চলছে। খুব দ্রুত থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে। আমাদের দাবি, অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, বিকাল ৫টায় শ্রীবরদী কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাত সাড়ে ৮টায় গোপালখিলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। গতকালের ঘটনায় ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিএনপির প্রার্থী রুবেল সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম জুনসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন গুরুতর আহত হয়ে রক্ত বমি করেছেন। তাদের আশঙ্কাজন অবস্থায় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। ঘটনার পর থেকে ঝিনাইগাতী ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।