Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণার আটদিন শেষ। প্রায় অর্ধেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে গণভোটের প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীরা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ এর পক্ষে কোনো অবস্থান নিতে পারবেন না।

অথচ গত একমাস ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে ব্যানার সাঁটিয়ে বলা হচ্ছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। পাশাপাশি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেও সরকারের তরফে বার্তা দিয়ে একাধিকবার গ্রাহকদের বলা হচ্ছে ‘পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিন’, ‘দেশের সম্পদ পাচার ঠেকাতে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন। প্রশ্ন উঠেছে সরকারি কর্মচারীদের হ্যাঁ প্রচার আইন সম্মত না হলে এতোদিন কমিশন ঘুমিয়ে ছিল কেন? এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দেরিতে ঘুম ভাঙার কারণ কী? 

নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।

আরপিও ৮৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- যদি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করিবার উদ্দেশ্যে তাহার সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক পাঁচ বৎসর এবং অন্যূন এক বৎসরের কারাদণ্ড, এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইবেন।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারের মাঝে হঠাৎ ইসি’র চিঠি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মানবজমিনকে বলেন, মাঝপথে কেন ইসি চিঠি দিয়েছে বা উদ্যোগ নিয়েছে তা নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন  করা উচিত। এখানে আলোচনা করার দরকার দুইপক্ষের। এ ধরনের চিঠি তো সাংঘর্ষিক। একদিকে প্রচার চলছে অন্যদিকে চিঠি দিয়ে বলবে আইন অনুযায়ী পারবেন না। এটা তো সাংঘর্ষিক।

ইসি’র চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ মানবজমিনকে বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো চিঠি আসেনি। আমি সারাদিন ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ছিলাম। তাই জানতে পারিনি। 

চিঠি না পাওয়ার কথা বললেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদও। তিনি মানবজমিনকে বলেন, এ ধরনের চিঠি এখনো পাইনি। তবে চিঠি পাওয়ার পর ইসি’র সঙ্গে সরকারের তরফে আলোচনা হতে পারে।