ভেনেজুয়েলার খোদ রাজধানীতে ঢুকে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করার পর এবার লাতিন আমেরিকার আরও তিন দেশের ওপর নজর মার্কিন প্রেসিডেন্টের। মাদুরোকে অপহরণ করা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার তিনি এবার নিশানা করেছেন কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও কিউবাকে। এই দেশগুলোকে মাদক ব্যবসার আঁতুড়ঘর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর আল জাজিরা, বিবিসি ও সিএনএনের।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মাদকপাচার ও অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে তাঁর দেশ কাউকেই ছাড় দেবে না। মাদক সন্ত্রাস ঠেকাতে যা প্রয়োজন, তা করতেও পিছপা হবে না। ভেনেজুয়েলার মতো পরিণতি হতে পারে এই দেশগুলোরও।
‘পরবর্তী নিশানা পেত্রো’ : মাদুরোকে বন্দি করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র নিন্দা করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বে আঘাত হেনেছে। লাতিন আমেরিকায় মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর পরই ট্রাম্প পেত্রোকে কড়া হুশিয়ারি দেন। সাংবাদিকদেরকে ট্রাম্প বলেন, ‘পেত্রোর কোকেন তৈরির কারখানা আছে। আমি আগেও এ কথা বলেছিলাম। আবারও বলছি, পেত্রোর মাদক তৈরির একাধিক কারখানা আছে। কলম্বিয়ায় মাদক তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে। তার (পেত্রো) নিজেকে নিয়ে ভাবা উচিত।’
ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের আগে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরে দেশটির একের পর এক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। জব্দ করে তাদের তেলের ট্যাঙ্কারও। ভেনেজুয়েলায় রকেটও নিক্ষেপ করা হয়। ওই সময়ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টেকে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তিনি (পেত্রো) মাদকবিরোধী অভিযানের পরবর্তী নিশানা হতে পারেন।’
‘মেক্সিকোকে চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা’ : ওদিকে, মেক্সিকোকে ট্রাম্প বারবারই অবৈধ অভিবাসন এবং দক্ষিণাঞ্চলে মাদকের কারবার নিয়ে সতর্ক করে এসেছেন। যদিও ট্রাম্প দাবি করছেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবউম পার্দোর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। ‘ফ্রক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস স্যাটারডে’ টিভি শোতে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা খুব ভালো বন্ধু। পার্দো ভালো একজন নারী। তবে মেক্সিকোকে তিনি পরিচালনা করছেন না। মেক্সিকোকে পরিচালনা করছে মাদক ব্যবসা। ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানো মানেই মেক্সিকোকে দেওয়া সতর্কবার্তা নয়, তবে মাদকচক্র পরিচালিত এই দেশটি নিয়ে কিছু একটা করতে হবে।’
‘ব্যর্থ শাসক দিয়াজ কানেল’ : কিউবাও ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের নিন্দা করেছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল বলেন, ভেনেজুয়েলার ওপর অপরাধমূলক হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক মহলকে এর বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প কিউবাকেও হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল ‘ব্যর্থ শাসক’। তিনি বলেন, ‘কিউবার পরিস্থিতি ভালো নয়। সেখানে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে। কিউবার জনগণের পক্ষে তা মোটেই ভালো ব্যাপার নয়। বছরের পর বছর ধরে কিউবার মানুষ ব্যর্থ শাসকের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কিউবার মানুষকে এ থেকে মুক্তি দিতে হবে।’