Image description

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলসংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের দ্বিতীয় দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ১২২টি আবেদন জমা পড়েছে। এ নিয়ে দুই দিনে মোট আপিল আবেদন দাঁড়িয়েছে ১৬৪টি। গতকাল আবেদন গ্রহণসংক্রান্ত ইসির কেন্দ্রীয় বুথ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। ইসি জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের দ্বিতীয় দিন ইসিতে ১২২টি আবেদন জমা পড়েছে। দুই দিনের আপিলে মোট ১৬৪ আবেদন পড়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

তাতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জন। ইসি জানিয়েছে, গতকাল ১০ অঞ্চলে ১২২টি আবেদন পড়েছে। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চল : ১০, রাজশাহী অঞ্চল: ১৭, খুলনা অঞ্চল : ১৬, বরিশাল অঞ্চল : ৫, ময়মনসিংহ অঞ্চল : ১৬, ঢাকা অঞ্চল : ২৩, ফরিদপুর অঞ্চল : ৫, সিলেট অঞ্চল : ৮, কুমিল্লা অঞ্চল : ১৪ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল : ৮।

ইসি জানিয়েছে, গতকাল সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন বুথে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা দিচ্ছেন প্রার্থীরা। সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন প্রায় ৩৫০ স্বতন্ত্র প্রার্থী; যা মোট বাতিল মনোনয়নপত্রের প্রায় অর্ধেক। আর যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাদের তিন চতুর্থাংশই বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন। ৩০০ আসনের বৈধ ও বাতিল মনোনয়নপত্রের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনি এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের তথ্যে গরমিলে ঝরে পড়েছেন তাঁরা।

তফসিল অনুযায়ী,  ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে। নিষ্পত্তি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

এদিকে ভোটাররা নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ যেন নির্বাচন কমিশন-ইসিতে জানাতে পারেন সেজন্য সংস্থা ১০ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল  ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টনের এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি ১৪ ডিসেম্বর ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির কাছেও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা যাবে।

ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপপরিচালক সালাহউদ্দীন আহমদ: যোগাযোগের মোবাইল নম্বর : ০১৭১২৫৯১১৪৪। ফরিদপুর অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হাসান ভূঞা; যোগাযোগে মোবাইল নম্বর : ০১৭১১৩৬৯৯৭৬। ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার; মোবাইল : ০১৭১২০৪৪১৮৮। বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আল-মামুন। মোবাইল : ০১৯৩৭৬৩৮০৩৫। সিলেট অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন আরেক সহকারী পরিচালক মিসবাহ উদ্দীন আহমেদ; মোবাইল : ০১৭১৭২৪৪০৭৮। ঢাকা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক জাকির মাহমুুদ; মোবাইল : ০১৭১৮৫৬৪৬৩৫। রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব সৈয়দ গোলাম রাশেদ। মোবাইল : ০১৮১৮২৬৮০৮২। চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাঃ সরওয়ার হোসেন; মোবাইল : ০১৭১৭৪০৫৫৯৪। রাজশাহী অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব মো. মমতাজ-আল-শিবলী; মোবাইল : ০১৬৭৬৩২৪৬০৯। কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইকরামুল হাসান; মোবাইল : ০১৭৯৭১৮৫১২৩। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের দুটি ইমেইলে নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ পাঠানো যাবে। সেগুলো হলো- [email protected], [email protected]