সৌদি আরব ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশের উচিত আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন পোস্টে তার অনুসারীরা আবারও বিস্মিত হয়েছেন।
ট্রাম্পের এই বার্তার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, আসলে কী এই চুক্তি এবং কেন এটি নিয়ে এত আলোচনা?
২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে হোয়াইট হাউসে বেশ সাড়ম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি অমীমাংসিত থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মাধ্যমে আরব বিশ্বের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার রীতি বাদ দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। এই চুক্তির ফলে দেশ দুটি ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক খাতে সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ পায়। এই দুই আরব দেশ চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক মাস পর মরক্কো এবং সুদানও আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেয়।
তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সেই মূল চুক্তির পর থেকে বর্তমান পরিস্থিতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণেই আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষে এখন এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।
ইসরায়েল গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে তাদের হামলা জোরদার করেছে এবং চলতি বছরে এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান উপসাগরীয় আরব মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারসহ মোট ছয়টি দেশে বোমাবর্ষণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থি থিংক ট্যাংক ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট কর্তৃক গত বছর পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ সৌদি উত্তরদাতা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন।
তা ছাড়া, সৌদি আরবও বারবার আরব শান্তি পরিকল্পনার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে আসছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার অবসান এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরই কেবল ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত যুক্ত রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা