Image description

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী নেতারা। তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত এই চুক্তি ইরানকে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের প্রভাব আরও বাড়াবে, যা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে।

রোববার ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি, যদিও অতীতে বারবার তিনি দাবি করেছিলেন ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ১৪ দফার একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা প্রাথমিকভাবে ৩০ থেকে ৬০ দিনের জন্য কার্যকর হতে পারে। এতে হরমুজ প্রণালি, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি স্থগিত ইরানি সম্পদ মুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।

 

তবে ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা অস্বীকার করেছেন যে, তেহরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগে সম্মত হয়েছে।

 

এদিকে এই সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রেখেই চুক্তি করে, তবে সেটি হবে ইসরাইলের জন্য দুঃস্বপ্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, যদি হরমুজ প্রণালি রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করা হয় এবং ইরান উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের সক্ষমতা ধরে রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে যাবে।

 

সিনেটর টম কটন ও রজার উইকারও গ্রাহামের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। উইকার বলেন, আলোচনায় থাকা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বিপর্যয়কর হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সব অর্জন ব্যর্থ হয়ে যাবে।

 

সিনেটর টেড ক্রুজও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যদি এই চুক্তির ফলে ইসলামপন্থী ইরানি সরকার বিলিয়ন ডলার পায়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, তাহলে সেটি হবে ভয়াবহ ভুল সিদ্ধান্ত।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সম্ভাব্য চুক্তিটিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, এটি মোটেও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

এছাড়া সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে সম্পূর্ণ সময়ের অপচয় বলে মন্তব্য করেছেন।

 

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প একদিকে যেমন চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদ দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকিও দিচ্ছেন। সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে চুক্তি না হলে ইরানকে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন আঘাতের মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

 

সূত্র: মিডল ইস্ট আই