Image description

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল নেতৃত্বকে টার্গেট করে বিজেপি প্রশাসনিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠছিল। সেই আবহেই এবার কলকাতা পৌরসভার নোটিশ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হলো।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার ও তার সংস্থার একাধিক সম্পত্তিতে ‘অবৈধ নির্মাণ’-এর অভিযোগ তুলে নোটিশ পাঠিয়েছে কলকাতা পৌরসভা।

কলকাতা পৌর আইনের ৪০০(১) ধারায় পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডের কয়েকটি সম্পত্তিতে প্ল্যান-বহির্ভূত নির্মাণ থাকতে পারে। সাত দিনের মধ্যে সেই অংশ ভেঙে ফেলতে হবে অথবা কারণ দর্শাতে হবে। না হলে পৌরসভা নিজেই ভাঙার পদক্ষেপ করবে এবং তার খরচও সম্পত্তির মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হবে। অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের সংস্থা বলে পরিচিত লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার নামেও নোটিশ গিয়েছে। মোট ১৭টি ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই পদক্ষেপের ঠিক আগের দিনই ফলতার নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছিলেন।

তিনি দাবি করেছিলেন, কলকাতায় অভিষেক ও তার সংস্থার সম্পত্তির তালিকা তার হাতে রয়েছে এবং ‘হিসাব হবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন। বিজেপির একাধিক নেতা অভিষেককে নিশানা করে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন।

এদিকে মঙ্গলবার বিধায়কদের বৈঠকে এই ইস্যুতে মুখ খোলেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘বাড়ি ভেঙে দিক, নোটিশ পাঠাক, আমি মাথা নত করব না।’ বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি।

তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বিরোধীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। প্রশাসনিক সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশও এই ঘটনাকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল বলেই মনে করছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হয়েছে। যে কোনো বিরোধী কণ্ঠকে চাপে রাখতে কখনও তদন্তকারী সংস্থা, কখনও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যদিও বিজেপির দাবি, আইন মেনেই পৌরসভা পদক্ষেপ করছে এবং বেআইনি নির্মাণ থাকলে ব্যবস্থা নিতেই হবে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নোটিশের সময় এবং শুভেন্দুর আগের দিনের মন্তব্য ঘিরে যে প্রশ্ন উঠছে, তা সবার কাছে স্পষ্ট।