ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, অযোগ্য শিক্ষকের অধীন পিএইচডি করলে তত্ত্বাবধায়কের চেয়ে বেশি অযোগ্য মানুষ তৈরি হবে। অযোগ্যের পেছনে যতই গবেষণা অর্থ বরাদ্দ দিন কেবল অপচয় হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা দিবে পিএইচডি-ইউজিসি। কাদের? যারা নিজ যোগ্যতায় স্কলারশিপ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পায় না তাদের? পিএইচডি বিহীনদেরতো নিয়োগই দেওয়ার কথা না। প্রাইম মিনিস্টার স্কলারশিপ ও বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ নামে আগের সরকারও এই গুলো করেছিল। যেই টাকা এইসব পচা প্রজেক্টে খরচ করবেন এই গুলো না করে শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করুন।
ঢাবির এ অধ্যাপক লেখেন, দেখবেন আমাদের জন্য শিক্ষার্থীরা যারা নিজ যোগ্যতায় পিএইচডি করতে গেছে তাদের অনেকেই ফিরে আসবে। আর যদি তারা আসে তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়াটা দলীয় ভিত্তিতে না করে মেধার ভিত্তিতে করবেন তাহলেই সমাধান হয়ে যাবে। এই সব আলতু ফালতু কাজ বন্ধ করুন। আমি বেশ অনেক বছর যাবৎ খেয়াল করেছি যে যারা মানুষের ট্যাক্সের টাকায় সরকারি অনুদানে স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করতে যায় তারা ভালো কাজের কোন চাপ অনুভব করে না। পিএইচডি কেউ নিজের বা সরকারের টাকায় অন্য দেশে পিএইচডি করে না।
তিনি আরো লেখেন, পিএইচডি যদি করাতেই হয় নিজ দেশে করান। কিন্তু তার আগে ভালো মানের পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য দরকার গবেষণার ইকো সিস্টেম তৈরি করা। বিশ্বমানের গবেষক নিয়োগ দিতে হবে যাদের তত্ত্বাবধানে পিএইচডির গবেষণা হবে, সাথে দরকার বিশ্বমানের পোস্টডক। শুধু তখনি কেবল দেশের পিএইচডির মান উন্নত হবে। এর আগে না। অযোগ্য শিক্ষকের অধীন পিএইচডি করলে তত্ত্বাবধায়কের চেয়ে বেশি অযোগ্য মানুষ তৈরি হবে। অযোগ্যের পেছনে যতই গবেষণা অর্থ বরাদ্দ দিন কেবল অপচয় হবে।