Image description

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কারিগরি শিক্ষা আজ আর বিকল্প কোনো ধারা নয়, এটি এখন আমাদের জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।

দক্ষ জনশক্তি তৈরি ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, যেভাবে জাপান, জার্মানি প্রভৃতি দেশ উন্নতি করেছে, আমাদেরকেও সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু সনদ প্রদান নয়, বরং এমন দক্ষতা তৈরি করা, যা সরাসরি কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম।

 

শনিবার রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এর রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

 

কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় রাজশাহী অঞ্চলের ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে, যার মধ্য থেকে সেরা ৬টি উদ্ভাবন আগামী ১৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়। এ প্রতিযোগিতাটি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংথিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (এএসএসইটি) প্রকল্প আয়োজন করে।

 

স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের সাফল্য কামনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদে রূপান্তর করাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার এবং কারিগরি শিক্ষা সেই রূপান্তরের প্রধান মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে “স্কিলস কম্পিটিশন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আমাদের তরুণদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম।

 

তিনি এ সময় নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা ও সৃজনশীলতার বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা করেন।

 

দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এনডিসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী।

অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. আবু হানিফ। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ASSET প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সটাক্টর এস এম তাহমিদ সাদিক।

শিক্ষামন্ত্রী অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং কারিগরি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে করণীয় সম্পর্কে জানতে চান। তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং লিখিতভাবে তাকে অবহিত করার জন্য আহ্বান জানান।

আঞ্চলিক ‘স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ উপলক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য রালি, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক সেমিনার এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এ প্রতিযোগিতায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং রাজশাহী বিভাগ ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের কারিগরি, মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, শিল্পকারখানা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন।

 

চূড়ান্ত বা জাতীয় পর্বে বিজয়ী তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্ভাবকদের প্রদান করা হবে আকর্ষণীয় পুরস্কার। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।