কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগে এক কথিত পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় এলাকাবাসীর মারধরে গুরুতর আহত হন কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর। ঘণ্টাদুয়েক পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার অন্তত সাতজন অনুসারীও আহত হয়েছেন। তবে তারা পলাতক রয়েছেন বলে জানা যায়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ব্যক্তির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া রয়েছে। কিন্তু ভিডিওটি অনেক আগের। ভিডিওটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার মানুষ সেখানে হামলা চালান। ওই ব্যক্তিকে পুলিশ উদ্ধার করলেও বিক্ষুব্ধ জনতার তুলনায় পুলিশ কম ছিল। এজন্য নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সুপার আরও বলেন, কারা কীভাবে ভিডিওটি নতুন করে সামনে নিয়ে এলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত শামীম রেজা স্থানীয়ভাবে ‘ভণ্ডপীর’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নিজেকে কখনো আল্লাহ, কখনো নবী বা ভগবান দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
স্থানীয়দের দাবি, শামীম রেজা ইসলামবিরোধী বক্তব্য প্রচার করে আসছিলেন এবং নিজস্ব ব্যাখ্যায় ধর্মীয় বিধান তুলে ধরে অনুসারীদের বিভ্রান্ত করতেন। তিনি নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার দিন সকাল থেকেই তার কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই শত শত ক্ষুব্ধ মানুষ তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং শামীমকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। জানা গেছে, ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে শামীম রেজা ঢাকায় মাস্টার্স সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন। ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়। সে সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শামীমের ভক্ত-অনুসারীদের বেশির ভাগই স্বল্পশিক্ষিত তরুণ-তরুণী বলে জানান স্থানীয়রা। তারা আরও জানান, তিন বছর ধরে তার আস্তানায় ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড চললেও মূলত ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ আঁখি নামে এক কিশোরের লাশ ঢোল-তবলা বাজিয়ে দাফন করার পর থেকে শামীম আলোচনায় আসেন। দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এলাকাবাসীর হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।